kolkata bengali news

ডেস্ক: গতকালই বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। সেই পরীক্ষায় সফলও হয়েছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এরই মাঝে অভূতপূর্ব ভাবে নাম না করে ভারতের এই কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করল আমেরিকা। আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব প্যাট্রিক শানাহান ভারতের নাম না করেই বলেন, বিভিন্ন দেশের এই ASAT মিসাইলের ফলে মহাকাশে আবর্জনার পাহাড় জমছে। পাশাপাশি, ভারতের এই ‘মিশন শক্তি’র ফল মহাকাশের উপর কীভাবে পরবে, সে নিয়ে রিপোর্ট তৈরির জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষাও করবে আমেরিকা, এমনটাও জানান শানাহান।

তিনি বলেন, ‘যে সব দেশ এই পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমরা সবাই এই মহাকাশেরই অংশ। একে আবর্জনার স্তূপ বানাবেন না। মহাকাশ এমন একটা জায়গা যেখানে সবাই সুস্থভাবে গবেষণা চালাতে চায়। মহাকাশে সবাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল দ্বারা কোনও উপগ্রহ ধ্বংস করা হলে, সেই উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে রয়ে যায়। পরবর্তীকালে কোনও সক্রিয় উপগ্রহর সঙ্গে সেগুলির ধাক্কা লাগতে পারে।

 

আমেরিকার মিলিটারি স্ট্র্যাটেজিক কম্যান্ড জানিয়েছে, ভারতের এই মিশনের ফলে তৈরি হওয়া প্রায় ২৫০টি উপগ্রহ খণ্ডের উপর তারা নজর রাখছে। যতক্ষণ না সেইগুলি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে নষ্ট হচ্ছে না, ততক্ষণ তারা সেগুলির উপর নজর রাখবে। অন্যদিকে, এই পরীক্ষার ফলে মহাকাশে কোনও বর্জ্য সঞ্চিত হবে না বলেই দাবি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারত তাদের যে উপগ্রহটি ধ্বংস করা হয়েছে, সেটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩০০ কিমি উপরে। ফলে ওই উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ মধ্যাকর্ষন শক্তির টানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

সেই ষাটের দশক থেকে ASAT মিসাইল নিয়ে পরীক্ষা করে আসছে আমেরিকা। আশির দশকে বিশেষ এফ-১৫ বিমানে করে এয়ার বেসড ASAT মিসাইল লঞ্চ করে তারা। এতকাল ধরে যে দেশ মহাকাশে এইরূপ ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তাঁরাই এখন মহাকাশে বর্জ্য রোখার কথা বলছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here