ডেস্ক: এ যেন স্বপ্নের যাত্রা৷ একটা সময়ে কাজ করেছেন ডিসকোর নিরপত্তারক্ষী হিসেবে৷ তারপর কিছুদিন ছিলেন চলচিত্র জগতে৷ তবে স্টার হয়ে উঠতে পারেননি৷ সহ-অভিনেতা হিসেবেই কাজ করেছেন৷ আর সেখান থেকে আজ মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে৷ ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারদের সঙ্গে রূপকথার ফাইনালে মাঠে থাকবেন তিনিও৷ তিনি নেস্তর পিতানা৷ আর্জেন্তিনার এই রেফারিকে বাঁশি মুখে দেখা যাবে রং রাশিয়ায় ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করতে৷

এই ম্যাচ পরিচালনা করতে নামার সঙ্গে সঙ্গে একটি নজিরবিহীন রেকর্ড ছোঁবেন ৪৩ বছর বয়সী পিতানা। দ্বিতীয় রেফারি হিসেবে একই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল পরিচালনা করবেন তিনি। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে তাঁরই স্বদেশি হোরাসিও এলিসন্দো এই কীর্তির অধিকারী হয়েছিলেন৷

৬ ফুট তিন ইঞ্চির বলিষ্ঠ চেহারার অধিকারী পিতানা আর্জেন্তাইন ঘরোয়া ফুটবলের পরিচিত মুখ। আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের বদ মেজাজি উগ্র ফুটবলারও তাঁর সামনে ট্যাঁ-ফো করার সাহস পাননা৷ কিন্তু পিতানাকেই কেন ফাইনালের মত হাইভোল্টেজ ম্যাচের পরিচালনার জন্য বেছে নেওয়া হল? ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কল্লিনা জানালেন, ‘পিতানা পাথরের মতো কঠিন৷ তিনি খেলোয়াড়দের অন্যায় প্রতিবাদ আর দাবিতে দমার পাত্র নন।”

রেফারির হিসেবে পিতানার পরিসংখ্যান খুবই ঈর্ষণীয়৷ পিতানা ৩৪৭টি পেশাদার ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ১ হাজার ৬৫৮টি হলুদ কার্ড এবং ১০৮টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন খেলোয়াড়দের তাঁর কেরিয়ারে। ২০০৭ সালে অভিষেকের পর ৮১বার পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷

কিন্তু তিনি কোনওদিনই ভাবতে পারেননি একজন পেশাদার রেফারি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের দরবারে সমাদৃত হবেন৷ তবে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্কেটবল এবং ফুটবল খেলা পিতানা রেফারিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং শারীর শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৯৭ সালের আর্জেন্টাইন চলচ্চিত্র ‘লা ফুরিয়া’তে কারারক্ষীর ছোট ভূমিকাতেও কাজ করেন পিতানা। এছাড়া লাইফগার্ড এবং একটি ডিসকোর সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিও করেছিলেন তিনি।

২০০৭ সালে আর্জেন্তিনা ক্লাব ফুটবলে পেশাদার রেফারি হিসেবে অভিষেক হয় পিতানার। এর বছর তিনেক পর আন্তর্জাতিক রেফারি তকমা পান। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তিনি চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। এবার ফাইনাল ম্যাচে বাঁশি বাজানোর দায়িত্ব পেলেন তিনি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here