ভয়ংকর খরা আসছে ভারতে, সতর্ক করল ইসরো-নাসা

0
1171
drought kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ‘আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে রে. …’ মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ , তামিলনাড়ু শুধু নয় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় জল শুকিয়ে যাবে৷ কমবে বর্ষা৷ বাড়বে গ্রীষ্ম৷ পানি বা জলের তীব্র সংকট বাড়বে৷ নিরুদ্দেশ বর্ষার মেঘ৷ মাটির নিচে জলস্তর কমে গিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই ভূ- বিজ্ঞানীরা ভারতের বেশ কয়েকটি শহরকে খরাপ্রবণ বলে ঘোষণা করেছেন৷ এর মধ্যে আছে কলকাতাও৷ চেন্নাই ইতিমধ্যেই ভুগছে৷ এ বার ভারতে খরা আরও ভয়াবহ হতে পারে। খরার গ্রাসে পড়তে পারে দেশের আরও অনেক এলাকা। এমনকি, ভারতের যে এলাকাগুলি এত দিন ‘খরাপ্রবণ’ বলে চিহ্নিত হয়নি, সেই সব অঞ্চলেও এ বার ফুটিফাটা হয়ে যেতে পারে মাটি।মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’র এক যৌথ পর্যবেক্ষণে এই অশনি সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। গত চার বছর ধরে গবেষণাটি চালানো হয়েছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায়। তার প্রথম পর্বটি সবে শেষ হয়েছে। গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

সরকার এখন ‘জল ভরো’ অভিযান করছে৷ তবে আমরা কি জল সঞ্চয় করি? জলের অপচয় না রুখলে সামনে ভীষণ দুর্দিন৷  খরার জন্য বৈজ্ঞানিক কারণও আছে৷ গরম কালে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণে অ্যারোসল কণা জমা হয়৷ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তার পরিমাণ উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। ভারত-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসলের স্তর গত চার বছরে এতটাই পুরু হয়ে গিয়েছে যে, তা বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ার থেকে পৌঁছে গিয়েছে তার উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও। যেহেতু বিষাক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির নির্গমন থেকেই অ্যারোসলের জন্ম হয়, তাই অ্যারোসলের মাধ্যমে দূষণ কণা প্রচুর পরিমাণে পৌঁছে যাচ্ছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও।দেখা গিয়েছে, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যে মেঘগুলিতে বরফ কণা মিশে থাকে, ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা খুব কম হয় বলে, সেখানেও ঢুকে পড়েছে অ্যারোসল কণা। আর তাদের পরিমাণ, ঘনত্ব ও আকার উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।

তিরুপতির ‘ন্যাশনাল অ্যাটমস্ফেরিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ (এনএআরএল বা ‘নার্ল’)-র আবহাওয়া বিজ্ঞানী মুরলী বেঙ্কট রত্নম জানান, ‘গবেষণার একটি ধাপ সবে শেষ হয়েছে। আমরা কাজ করেছি ‘এশিয়ান ট্রপোপোজ অ্যারোসল লেয়ার’ বা ‘অ্যাটাল’ নিয়ে। বেলুনের মাধ্যমে কয়েকটি সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিকে ট্রপোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার পর্যন্ত পাঠিয়ে। বেলুনের মাধ্যমে এই পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে এই পদ্ধতিকে ‘ব্যাটাল’ও বলা হয়।’গবেষণা জানিয়েছে, গাছপালা পোড়ানো ও কলকারখানা থেকে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ায় ওই অ্যারোসল্‌স কণাদের জন্ম হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির অতি ব্যবহারে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ। তার ফলে, অ্যারোসলের স্তর ভীষণ পুরু হয়ে গিয়েছে। ট্রপোস্ফিয়ার ছাপিয়ে তা পৌঁছে গিয়েছ়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে।

মেঘ আর সে মেঘ নেই৷ আক্ষেপ পুনের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিয়োরোলজি’ (আইআইটিএম)-র মেঘ বিশেষজ্ঞ আর কৃষ্ণণের৷ তিনি  জানান, ‘বৃষ্টির জন্য মেঘ বানানোর প্রক্রিয়ায় অ্যারোসল কণাদের যথেষ্টই ভূমিকা রয়েছে। ফি-বছরই গরম কালে ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জমা হয় জলীয় বাষ্প ও অ্যারোসল কণা। কিন্তু অ্যারোসল কণাদের উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়া পরিমাণ যদি বায়ুমণ্ডলের অনেকটা উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও পৌঁছে যায়, তা হলে বিপদ কিছুটা বেড়ে যায়।  মূলত দূষণ কণা থেকেই জন্ম অ্যারোসল কণাদের, তাই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ বেড়ে গেলে, তুলনায় হালকা জলীয় বাষ্পের চেয়ে মেঘ তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করে অ্যারোসল কণারাই। তারাই অনেক সময় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে জলভরা মেঘগুলিকে জমাট বাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তারই জলভরা মেঘগুলির কেন্দ্র (নিউক্লিয়াস)-টাকে গড়ে তোলে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here