kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পাশ্চাত্য দেশে কিংবা ভারতের আধুনিক শহরগুলিতে  স্বয়ংক্রিয় ট্রলির মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে পরিষেবা দেওয়ার চিত্র অনেকেই লক্ষ্য করেছেন। বিভিন্ন পানশাল বা রেস্টুরেন্টে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় না হলেও তেমনই এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছেন বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রায়পুর এলাকার এক ওষুধের দোকানদার। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের একমাত্র উপায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বারবার সচেতন করা হলেও এখনও টনক নড়েনি অনেকেরই। কিন্তু একটি ওষুধের দোকানে ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার এক অভিনব পন্থা দেখা গেল বাঁকুড়ায়।

চারিদিকে লকডাউন। কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সঙ্গে ওষুধকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর করোনা আতঙ্কের জেরে ওষুধ বিক্রি বেশ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এই সময় খোলা রাখতে হচ্ছে দোকান, দিতে হচ্ছে ওষুধ। কিছুটা হলেও আতঙ্কে রয়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ী থেকে দোকানদাররা। আর এই ভয় থেকেই অভিনব পন্থা মাথায় আসে এক স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীর।

বুদ্ধি খাটিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে ওষুধ বিক্রি। যেখানে দোকানের কিছুটা দূরে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যরিকেড। সেই ব্যরিকেড থেকে দোকানের টেবিলের সঙ্গে দুটি দড়ির মধ্য দিয়ে সরু পাইপের ওপর লাগানো হয়েছে একটি খালি ওষুধের বাক্স। বাক্সের দুই মাথায় দুই দিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে দুটি দড়ি। যারা ওষুধ নিতে আসছেন, তারা বাক্সের মধ্যে দিয়ে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশন। এরপর তা দেখে দোকানদার ওষুধ দিচ্ছেন। সেই ওষুধ দড়ি দিয়ে টেনে নিচ্ছেন ক্রেতা। সেই বক্সেই আবার দিয়ে দিচ্ছেন টাকা। যা দড়ি টেনে হিসেব মতো টাকা নিয়ে অবশিষ্ট ফেরত দিচ্ছেন দোকানের কর্মীরা। স্থানীয় দোকানদারের এই বুদ্ধির তারিফ করেছেন সকলেই।

অভিনব এই উদ্যোগে খুশি ক্রেতারাও। দোকানদার  জানিয়েছেন, প্রথমে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হলেও, তা ঠিক হয়ে উঠছিল না। তার পরেই মাথায় আসে এই অভিনব ব্যবস্থা। নামমাত্র খরচায় এই ব্যবস্থা গড়ে তুলুন আর অনেকে। তা হলে সচেতন হবে সমাজ। তবেই করোনার সঙ্গে এই যুদ্ধে জয় পাওয়া যাবে বলে দাবি ওই দোকানদারের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here