ডেস্ক: বাজির আওয়াজেই ফিকে পড়ে গেল অমৃতসরের দশেরার আনন্দ। চারিদিকে অন্ধকার, সকলেই তখন রাবণ দহন দেখতে ব্যস্ত। আচমকা ট্রেনটি এসে পড়ে, ট্রেনের হর্ন কানে পৌঁছায়নি কারুর। যার জেরে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় অমৃতসর। তবে এই ঘটনার পর স্বভাবতই স্টেশনের দায়িত্বে থাকা দুই স্টেশন মাস্টার ও রেলের মোটরম্যান এবং গেটমানের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সকলেই রাবণের কুশ পুতুল পোড়ানো দেখার জন্য নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রেখে রেল লাইনের পাশে ভিড় করেছিলেন। অনেকেই লাইনের উপর উঠে এসেছিলেন। কিন্তু ওদিকে রেলগেট খোলা ছিল সেদিকে কারুর নজর ছিল না। যার ফলেই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা, দ্রুতগতিতে আপ এবং ডাউন লাইনে এসে পড়ে দুটি ট্রেন। হর্ন দিলেও বাজি এবং বাজনার শব্দে ঢেকে যায় ট্রেনের হর্নের আওয়াজ। লাইন দিয়েই হুড়মুড় করে এগিয়ে আসছে জলন্ধর সিটি-অমৃতসর DMU (ট্রেন নম্বর ৭৪৬৪৩)। যখন উৎসুক জনতা বুঝতে পারলেন তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। মুহুর্তের মধ্যে ট্রেনে চাপা পড়ে যায় শতাধিক মানুষ।

অন্যদিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই রাবণ দহন দেখতে যারা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ভিনরাজ্য থেকে আসা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্বজন হারা হয়েছেন বহুপরিবার। এই ঘটনার পর ওই ট্রেনের চালক জানিয়েছেন, ওই সময় ট্রেনের সিগন্যাল সবুজ থাকাতেই তিনি ট্রেন নিয়ে এগিয়ে যান। ওই সময় দশেরা উৎসব পালন করতে গিয়ে যে একশোরও বেশি মানুষ রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়েছিলেন তা তাঁর অজানা ছিল। যার জেরেই নিমেষে প্রাণ হারাল ওই সাধারণ মানুষরা। এই পুরো ঘটনায় রেলের গেটম্যানের দায়িত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও রেলের তরফে গাফিলতির কথা স্বীকার করা হয়নি। উলটে রেলের সিগন্যাল সবুজ থাকা সত্বেও কেন এত লোক রেল লাইনে দাড়িয়েছিল সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

রেলের ডিআরএম জানিয়েছেন, উৎসবের কোনও খবর আমাদের কাছে ছিল না। লাইনে লোক দেখার পর ডিএমইউ ট্রেনের চালক ব্রেকও কষেছিলেন। ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগ থেকে গাড়ির গতিও কমে গিয়েছিল ৬৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার দূরে থাকলে তবেই ট্রেন থামানো যেত। এক্ষেত্রে চালক হর্নও বাজিয়েছিলেন। জানান ডিআরএম। তবে এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্তই হবে, এমনটাই আশ্বাস দিয়েছে রেল। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র পাঞ্জাব জুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। পালন করা হয়ছে শোকের ছায়া। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। তাদের পরিবারকে সমস্ত রকমভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here