শুভায়ণ রায়, কলকাতা: ব্যোমকেশ বক্সীর ফ্যানেদের যে অন্যকোন সিনেমা দিয়ে আকৃষ্ট করা যাবে না সেটা হয়তো ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছেন পরিচালক মহাশয়। হয়তো এই কয়েক বছরে দর্শকদের পালস চিনে ফেলেছেন অরিন্দম শীল। তাই এবারের পুজোয় শেষ হাসিটা কিন্তু হাসতে চলেছেন তিনিই। গত ১২ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে ‘ব্যোমকেশ গোত্র’। এবং প্রত্যাশা মতো প্রথমদিন থেকেই হাউসফুল চলছে আবীর চট্টোপাধ্যায়-এর অভিনীত ‘ব্যোমকেশ গোত্র’। সিনেপ্রেমীরা নিশ্চয়ই জানেন যে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রক্তের দাগ’ গল্পকে এবারে বেছে নিয়েছিলেন পরিচালক অরিন্দম শীল। ফলে গল্প সকলেরই চেনা, তবে চিত্রনাট্যের জন্য কিছু চরিত্রের রদবদল এবং গল্পের ধরণ পরিবর্তন করতে হয়েছে, সেটা মুক্তির আন্দাজই করা গিয়েছিল। যা সিনেমার খাতিরে মানাই যায়। কিন্তু বেশকিছু চেসিং-এর দৃশ্য অযথা লম্বা করে ছবির গতিকে মাঝেমধ্যে মন্থর করে দেওয়া হয়েছে। এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। এই পর্বে ব্যোমকেশকে আরও স্মার্ট এবং রোম্যান্টিক এবং শক্তিশালী লেগেছে, যা আবীর ভক্তদের কাছে সুখবরই বলা চলে।

অন্যদিকে সত্যবতী চরিত্রে সোহিনী সরকারও অসাধারণ। তবে অজিত চরিত্রে রাহুল খুব একটা দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠলেন না। কারণ অতীতে এই চরিত্রে আমরা শাশ্বত এবং ঋত্বিকের মতো অভিনেতাদের দেখেছি যাদের বয়সের সঙ্গে চরিত্রের দৃঢ়তা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকছিল। কিন্তু এবারের অজিতকে দেখে মনে হল ব্যোমকেশের বয়স যতটা বেড়েছে, ততটা কমেছে তাঁর বয়স। অন্যদিকে এই ছবিতে সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছে সত্যকাম অর্থাৎ অর্জুন চক্রবর্তী। নিজের কেরিয়ারের মাইলস্টোন হতে চলেছে এই ছবিটি। তাঁর চোখের ইশারা, অ্যাটিটিউড, বাচনভঙ্গি মন জয় করেছে সমালোচকদের।

পাশাপাশি অঞ্জন দত্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সিনেপ্রেমীদের। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা সরকার, সৌরসেনী, নবাগতা বিবৃতি সকলেই পারফেক্ট অভিনয় করেছেন। এবার আসা যাক সঙ্গীতবিভাগে। অরিন্দম শীলের প্রায় প্রত্যেকটা ছবিতেই মিউজিক দেন বিক্রম ঘোষ। এই ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনি এবারেও অনবদ্য। অন্যদিকে সিনেম্যাটোগ্রাফি বিভাগে শুভঙ্কর ভড়ও নিজের সেরাটা দিয়েছেন। মুসৌরি শহরটা তিনি বেশ সুন্দরভাবে ফ্রেমবন্দি করেছেন। সব মিলিয়ে এই পুজোতে জমাটি রহস্যভেদ করছেন ব্যোমকেশে বক্সী, যা সত্যি উপভোগ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here