নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর: আস্ত দামোদর জলশূন্য হয়ে পড়ার ঘটনা আজও ভুলতে পারেনি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষজন। অথচ গোটা আসানসোল – দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ১০ থেকে ১৫ লক্ষ মানুষের পানীয় জলের ভরসা সেই দামোদর নদ। সামনেই গ্রীষ্মকাল, প্রতি বছর এই সময়েই নেমে যায় দামোদরের জলস্তর। তার জেরে পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে নেমে আসে পানীয় জলের জন্য হাহাকার। এবার সময় থাকতে থাকতেই এই সমস্যার আগাম সমাধানের পথে হাঁটা দিল দুর্গাপুর পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। শহরে গ্রীষ্মকালে মাথাচাড়া দেওয়া তীব্র জল সংকট সমস্যা মেটাতে এবার দুর্গাপুর পুরনিগমের বাজি হতে চলেছে ১২ কোটি টাকার এক নয়া প্রকল্প।

জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর পুরনিগম এলাকায় জলসংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এবার ভূগর্ভস্থ জলের দ্বারস্থ হচ্ছে পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। গোটা শহরে মোট ৩৬টি জায়গায় তৈরি করা হবে গভীর নলকূপ। সমগ্র প্রকল্পে খরচ হবে ১২ কোটি টাকা। দুর্গাপুরের পিয়ালা পাম্পিং স্টেশনে বুধবার সেই প্রকল্পেরই দুটি নলকূপের উদ্বোধন করলেন মহানাগরিক দিলিপ অগস্তি। জলদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ পবিত্র চ্যাটার্জী জানালেন যে, জলস্তর চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে। তারা আপাতত মোট ২৫টি স্থান চিহ্নিত করেছে। ভূগর্ভস্থে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ ফুট গভীর থেকে জল তোলা হবে। যদিও এরজন্য ভূগর্ভস্থ জলস্তরের কোন ক্ষতি হবে না বলে মন্তব্য তার। এই প্রকল্পে মোট ১২ কোটি টাকা ব্যায় হবে বলে জানান পবিত্র চ্যাটার্জী।

গত বছর দামোদরের বুকে গড়ে ওঠা দুর্গাপুর ব্যারেজের একটি লকগেট ভেঙে যাওয়ার জেরে গোটা ইস্পাতনগরী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে তীব্র জলসংকট দেখা দেয়। সেই সময়েই পুরনিগম কর্তৃপক্ষ শহরের জলের সংকট মেটাতে দামোদরের বিকল্প ব্যাবস্থা হিসেবে নাচন ড্যাম্পের কথা ভেবেছিল। কিন্তু এখনও সেই প্রকল্পের বাস্তবায়ণ আলোচনার স্তরেই রয়ে গিয়েছে বলে জানান পবিত্রবাবু। তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা মাটির নিচের জলেই আস্থা রেখেছেন। আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই এই গভীর নলকূপ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here