sports news football

ইস্টবেঙ্গল- ১ (ক্রোমা)     পঞ্জাব এফসি- ১ (খোসলা)

নিজস্ব প্রতিবেদন: কল্যাণীতে আজ জয়ের খোঁজে যখন নামে ইস্টবেঙ্গল, তখন বোধহয় চিরশত্রু ক্লাবের তিন পয়েন্ট কামনা করেছিলেন হাজার হাজার মোহনবাগান সমর্থকও। কারণ আজ ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ পঞ্জাব যে খেতাবি দৌড়ে মোহনবাগানের পরেই আছে। পয়েন্টের বিচারে মোহনবাগান বেশ কিছুটা ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও সাবধানের মার নেই। ফলে আজ পঞ্জাব হারলে সবুজ মেরুনের খেতাব জয় আরও সুনিশ্চিত হত। যদিও সেই আশা আংশিক পূর্ণ হল। কল্যাণীতে দুই ম্যাচ পর ফের একবার পয়েন্টের মুখ দেখল শতবর্ষের ক্লাব (এক পয়েন্ট হলেও পয়েন্ট তো)।

এদিন নিজের দলে দুটি পরিবর্তন করেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। ডিডিকা ও খুয়ান মেরার জায়গায় দলে এনেছিলেন কমলপ্রীত ও মার্কোসকে। এই বছরের প্রথম ম্যাচ থেকেই ডিফেন্সের সমস্যায় অদ্ভুত ভাবে ভুগতে হয়েছে লাল হলুদকে। তাই আজ আশীর, কমলপ্রীত, আভাস, সামাদ ও মেহতাবকে নিয়ে মোট পাঁচজন ডিফেন্ডারকে নামিয়েছিলেন তিনি। মাঝমাঠে ছিলেন কাশিম, কোলাডো ও ব্র্যান্ডন। আক্রমণে ছিলেন ক্রোমা ও মার্কোস।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে পঞ্জাব। মাত্র ৮ মিনিটেই বল নিয়ে লাল হলুদ বক্সে ঢুকে পরে শট নেন সঞ্জু প্রধান। মিরশাদ সেই বল সেভ করেন। সেইখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে এসে দুরন্ত শটে লাল হলুদকে এগিয়ে দেন ক্রোমা। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়রা। বেশ কিছু আক্রমণের সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ বজায় রাখতে পারেনি লাল হলুদ। সঞ্জু প্রধানের দুরন্ত দৌড়ে ভর করে ম্যাচে ফেরে পঞ্জাবও। মুহুর্মুহু আক্রমণে বেশ কাঁপুনি ধরে লাল হলুদ ডিফেন্সে। শেষমেশ ৪০ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে পঞ্জাব। বার্বোসার ক্রস থেকে গোল করে যান খোসলা। যদিও প্রথমার্ধের শেষদিকে খুব সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন ব্র্যান্ডন। মার্কোস ফাঁকায় তাঁকে বল সাজিয়ে দিলেও তিনি তা তেকাঠিতে রাখতে ব্যর্থ হন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও একই ভাবে পঞ্জাব ক্রমাগত চাপ বজায় রাখে। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও উপায়ে বিপদ কাটিয়ে দিচ্ছিল লাল হলুদ ডিফেন্স। অবশ্য মাঝে মাঝে প্রতি আক্রমণে উঠছিলেন ক্রোমারাও। একবার তো কোলাডো পঞ্জাব বক্সের মাথা থেকে বল মার্কোসের উদ্দেশ্যে সাজিয়ে দেন। কিন্তু সাইড ভলিতে সেই বল গ্যালারিতে পাঠান এই স্প্যানিশ তারকা। এরপরেই মার্কোসকে তুলে নিয়ে খুয়ান মেরাকে নামান মারিও। ব্র্যান্ডনের জায়গায় নামেন নাওরেম। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভের লাভ হয়নি। ক্রমাগত চাপ বজায় রাখে পঞ্জাব। ৮৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভুলে বল নিয়ে লাল হলুদ বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ডিপান্ডা ডিকা। কিন্তু তাঁর শট বাঁচান মিরশাদ। এরপর বাকি সময়ে স্কোরবোর্ডে কোনও পরিবর্তন আসেনি। এই ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, এক ম্যাচ কম খেলে পঞ্জাবের সঙ্গে মোহনবাগানের পয়েন্টের পার্থক্য রইল আট।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: মিরশাদ, আশীর, কমলপ্রীত, আভাস, সামাদ, মেহতাব, কোলাডো, কাশিম, ব্র্যান্ডন, ক্রোমা ও মার্কোস

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here