বৃষ্টিভেজা মাঠে বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলে জয়ের সরণিতে ইস্টবেঙ্গল

0
68
kolkata bengali news

ইস্টবেঙ্গল- ২ (কোলাডো, বিদ্যাসাগর)

বিএসএস- ১ (ওকোপু পেনাল্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদন: ম্যাচ শুরুর আগে থেকে তুমুল বৃষ্টি। সাধারণত ক্রিকেটের ক্ষেত্রে খেলা বন্ধ থাকলেও ফুটবলটা খেলাই যায়। কিন্তু ময়দানের মাঠগুলির ক্ষেত্রে নিয়মটা সেভাবে খাটে না। তাই বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর শুরু হলো খেলা। বিপক্ষ কোচ রঘু নন্দী বরাবরই জায়ান্ট কিলার হিসেবে পরিচিত। হাতে মশলা কম থাকলেও বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল দিয়ে আগে বহুবার ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো দলকে আটকে দিয়েছেন। এদিনের কাদা মাঠে বিএসএস দল নিয়ে সেই কাজে ব্যর্থ তিনি। বরং কাদা মাঠেও বেশ ভালো ফুটবল খেলে কলকাতা লিগে প্রথম জয় ছিনিয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল।

কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে জর্জের কাছে শেষ মুহূর্তে হারতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। তারপর দুরান্ড সেমিফাইনালেও হারতে হয় গোকুলামের কাছে। ফলে এদিন শুরু থেকেই কিছুটা মরিয়া ছিলেন কোচ আলেহান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া। প্রথম দলে এনেছিলেন সাতটি পরিবর্তন। এদিন লাল হলুদ জার্সিতে অভিষেক হয় স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মার্কোস এসপাদার। যদিও তার দুর্ভাগ্য প্রথম ম্যাচেই একেবারে ময়দানের (কু)খ্যাত কাদা মাঠে নামতে হল তাকে। ফলে যা হওয়ার হলও তাই। কাদা মাঠে নিজের স্বাভাবিক মুভমেন্ট করতে বেশ বেগ পেতে হল তাকে। তবে শুধু তিনি বেগ পেলেন তা বললে কম বলা হবে। মাঠে উপস্থিত ২২জন ফুটবলারই বলের আনপ্রেডিক্টেবল মুভমেনটের কারণে (বিশেষ করে রেমপার্টের দিকে) বারবার নাকানি চোবানি খেলেন।

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে লাল হলুদ। আসলে কাদা মাঠে যত সময় গড়াবে, তত বুট ভারী হবে, গোল করা শক্ত হয়ে পড়বে, এটা বুঝেই বোধহয় শুরু থেকে আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন আলেহান্দ্রো। ম্যাচের বয়স যখন মিনিট ছয়েক, সেই সময় বিপক্ষ বক্সের কিছু বাইরে থেকে ফ্রিকিক পায় ইস্টবেঙ্গল। সেখান থেকে কোলাডোর বাঁক খাওয়ানো ফ্রিকিক দর্শনীয় ভাবে সেভ করেন বিএসএসের কিপার সন্দীপ। সে যাত্রায় দলকে কোনো রকমে বাঁচালেও, লাল হলুদের আক্রমণের প্রেসার কুকারের সামনে বেশিক্ষন স্নায়ু ঠিক রাখতে পারেনি বিএসএস। ১৭ মিনিটে বিদ্যাসাগরের মাইনাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে কোলাডোর পায়ে তুলে দেয় বিএসএস ডিফেন্স। সেখান থেকে ডান পায়ের দুরন্ত প্লেসিংয়ে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ তরুণ। গোল পাওয়ার পরও কিন্তু একটুও চাপ কমায়নি শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব। বেশ কয়েকবার দলের নিশ্চিত পতন রোধন করেন সন্দীপ। একবার তো গোললাইন থেকে বল কোনই রকমে বাঁচানো হয়। অবশ্য মাঝে কিছু সময় পাল্টা আক্রমণেও ওঠে বিএসএস। কিন্তু সেগুলো খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। এই কাদা মাঠে সবসময়ই চোটের সম্ভাবনা থাকে। সেই আশঙ্কা সত্যি করেই পায়ে আঘাত নিয়ে প্রথমার্ধেই মাঠের বাইরে চলে যান মেহতাব।

দ্বিতীয়ার্ধেও সেই প্রথমার্ধেরই ছবি। রঘু নন্দীর দলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গেলেন রালতে, এসপাদারা। কাদা মাঠে যেভাবে খেলা উচিত সেই লং বল থিয়োরিতেই আক্রমণের ঝড় লাল হলুদের। ৫১ মিনিটে কোলাডোর এরকমই একটি লং বল ধরে একক দক্ষতায় দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বিদ্যাসাগর সিং। এরপর আরও বেশ কিছু আক্রমণ ইস্টবেঙ্গল তৈরি করলেও কাদা মাঠে খেলার ক্লান্তি ধীরে ধীরে গ্রাস করেছিল লাল হলুদ আক্রমণ ভাগকে। ফলে গোলের দুর্দান্ত সুযোগ সেরম ভাবে তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে যাও আক্রমণ গড়ে তুলেছিল বিএসএস, দ্বিতীয়ার্ধে সেটাও যেন হারিয়ে যায়। শেষ লগ্নে অবশ্য বক্সের মধ্যে হ্যান্ড বল করেন কমলপ্রীত। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওকোপু।

 

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: লালথামুইয়া, কমলপ্রীত, কোলাডো, নাওরেম, মার্কোস, ডিডিকা, ক্রেসপি, বিদ্যাসাগর, অভিষেক, মেহতাব, ব্রেন্ডন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here