ডেস্ক: সুপার কাপে কি আদৌ খেলবে ইস্টবেঙ্গল? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন বোধ হয় ফেলুদা, ব্যোমকেশের পক্ষেও সম্ভব নয়। নিত্যদিন বদলাচ্ছে সমীকরণ। একদিন যখন জানা যাচ্ছে সুপার কাপে খেলবে ইস্টবেঙ্গল, তখন পরের দিনই সেই সম্ভাবনা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে বেঙ্গালুরুতে ২৮ মার্চ বোর্ড মিটিং করার সিদ্ধান্ত নিল কোয়েস কর্তৃপক্ষ। সেই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার কথা ইস্টবেঙ্গলের দুই আদি কর্তা কল্যাণ মজুমদার, দেবব্রত সরকার সহ বাকি বোর্ড সদস্যদেরও।

আই লিগের ভবিষ্যৎ ও দেশের দুই লিগের সংযুক্তকরণ সহ একাধিক ইস্যুতে ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল আই লিগের ক্লাবগুলি। কিন্তু সেই চিঠির জবাব দেওয়ার সময় পাননি প্রফুল্ল প্যাটেল। এরপরেই সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় কোয়েস ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সহ আই লিগের অধিকাংশ দল। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত একই থাকবে, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়।

 

কোয়েসের এই সুপার কাপ না খেলার একতরফা সিদ্ধান্ত একেবারেই মেনে নিতে পারেন নি কল্যাণ মজুমদার, দেবব্রত সরকারসহ ইস্টবেঙ্গলের আদি কর্তারা। সোমবার ক্লাব তাঁবুতে কার্যকরী কমিটির সভা ডেকেছিলেন তাঁরা। সেই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য কোয়েস চেয়ারম্যানকে চিঠিও দেন তাঁরা। কিন্তু উক্ত সভায় অজিত আইজ্যাক বা কোয়েসের কোনও প্রতিনিধি আসেন নি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপে খেলবে। এই নিয়ে কোয়েসের কী মত, তা জানানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে স্বভাবতই কোনও উত্তর দেননি কোয়েস কর্তারা। পাল্টা, বুধবার কোয়েসসহ বাকি বিদ্রোহী দলগুলি কুশল দাসকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় তাদের দাবি না মানা হলে, সুপার কাপ তারা খেলবে না।

এরপরই বুধবার রাতে ক্লাব তাঁবুতে আলোচনায় বসেন কল্যাণ মজুমদার, দেবব্রত সরকার, অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেখানেই কোয়েসের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটার চরম সিদ্ধান্ত নেন তারা। সভায় ঠিক হয়, সুপার কাপে ইস্টবেঙ্গল প্রেসিডেন্ট একাদশ নাম নিয়ে খেলবে লাল-হলুদ। দলের রিজার্ভ ফুটবলার, বিভিন্ন সময় লিয়েনে থাকা খেলোয়াড় ও সন্তোষ কাপের ফুটবলাররা এই প্রতিযোগিতায় লাল-হলুদ জার্সিতে খেলবেন।

কিন্তু সেই সম্ভাবনা এক ক্ষেত্রে নেইই। কারণ, সুপার কাপ খেলতে পারে একমাত্র আইলিগ ও আইএসএলের দল্গুলিই। আই লিগে লাল-হলুদ কোয়েস ইস্টবেঙ্গল নামেই নিজেদের নথিভুক্ত করিয়েছিল। সেক্ষেত্রে অন্য কোনও নামে ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপে খেলতে পারবে না। অন্যদিকে, কোয়েস ইস্টবেঙ্গল কি সুপার কাপে খেলবে, সেই নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য শনিবার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সুপার কাপ নিয়ে একেবারে তলানিতে কোয়েস ও লাল-হলুদ কর্তাদের সম্পর্ক। ২৮ মার্চের বৈঠকে সুপার কাপে খেলার সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে ইনভেস্টর ও ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর।

বিদ্রোহী জোটে ভাঙন

একদিকে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ ঠিক করার জন্য যখন শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনর রয়েছে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সহ একাধিক আই লিগের ক্লাব। এরই মাঝে বিদ্রোহের পথে বড় ধাক্কা খেল আই লিগের ক্লাবগুলির বিদ্রোহী জোট। ‘জোট’ ভেঙে বেরিয়ে এসে সুপার কাপে খেলার কথা ঘোষণা করলেন রিয়াল কাশ্মীর দলের মালিক শামিম মেহরাজ। যদিও তাঁর দাবি, রিয়াল কাশ্মীর নাকি কোনও দিনই কোনও রকম জোটে ছিল না। ফলে জোট ভাঙার নাকি কোনও প্রশ্নই নেই। যদিও আই লিগের সূচি নতুনভাবে প্রকাশ করা না পর্যন্ত সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে বাকি বিদ্রোহী ক্লাবগুলি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here