বিদ্যাসাগরের জোড়া গোল ডুরান্ড কাপের শেষ চারে ইস্টবেঙ্গল

0

ইস্টবেঙ্গল- ২ (বিদ্যাসাগর ২)
বেঙ্গালুরু- ১ (অজয়)

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দৌড়, দৌড় আর দৌড় – এই মন্ত্রেই কার্যত দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে দল নামিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু কোচ নওশাদ মুসা। ডুরান্ড কাপে আইএসএলের বাকি দল গুলির মত প্রথম দল নামায়নি বেঙ্গালুরু। প্রবলতর প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে তাই অফুরান দম ও সংঘবদ্ধ ফুটবলই ছিল বিএফসির অস্ত্র। কিন্তু লাল হলুদ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও আলেহান্দ্রোর মগজাস্ত্রের জোরে সেই বাধা টপকে ডুরান্ড কাপের সেমিতে ইস্টবেঙ্গল।

এদিন প্রত্যাশা মতোই প্রথম টিমের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে নামিয়েছিলেন আলেহান্দ্রো। তিনি বোধহয় আঁচ করেছিলেন বেঙ্গালুরুর তরুণ খেলোয়াড়দের দৌড় সামলানোর জন্য অভিজ্ঞতার দরকার। আর হলও ঠিক তাই। প্রথমার্ধে এডমন্ড, নাওরেম, সুরেশদের দুরন্ত গতি নাজেহাল অবস্থা করে রাখল ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু লাল হলুদ খেলোয়াড়রা গতির অভাব পুষিয়ে দিলেন অভিজ্ঞতা দিয়ে। গোটা ম্যাচ লাল হলুদ ডিফেন্সকে নাজেহাল করে দিলেও স্রেফ অভিজ্ঞতা আর বিদ্যাসাগরের দুরন্ত গোলে বেঙ্গালুরু জয় শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের। একইসঙ্গে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালেও চলে গেল আলেহান্দ্রো ব্রিগেড।

প্রথমার্ধের শুরু থেকেই অফুরান দৌড়ে দিয়ে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে বারবার হানা দেয় বেঙ্গালুরুর তরুণ ছেলেরা। তৃতীয় মিনিটেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় বিএফসি। সে যাত্রায় কোনো রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন লাল হলুদ ডিফেন্ডাররা। কিন্তু বিএফসির দৌড় বেশিক্ষণ থামাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স। ১৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে তিরগতিতে দৌড়ে ইস্টবেঙ্গল বক্সে পৌঁছে যায় বেঙ্গালুরু। সেখান থেকে এডমন্ডের শট লাল হলুদ বারে লেগে ফিরলে রিবাউন্ড থেকে গোল করেন অজয় ছেত্রী। গোল খাওয়ার পর অবশ্য কিছুটা ম্যাচের হাল ধরে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে এই সময় কিছুটা ডিফেন্সের মোড়কে চলে যায় বিএফসি। ফলে বেশ কিছু আক্রমণ শানায় লাল হলুদ। কিন্তু আইএসএল দলের সংঘবদ্ধ ডিফেন্সের সামনে সবই প্রতিহত হয়ে যায়। প্রথমার্ধে অবশ্য একটি পেনাল্টি পেতে পারতো কলকাতার অন্যতম প্রধান। বিএফসির এক ডিফেন্ডার কোলাডোর মাথায় পা তুলে দেন। কিন্তু অদ্ভুত কারণে বক্সের ভিতর ফাউল হওয়া সত্ত্বেও ইনডিরেক্ট ফ্রিকিক দেন রেফারি তেজস বিশ্বাস রাও।

এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল। ৪৭ মিনিটেই লাল হলুদের হয়ে গোল শোধ করে দিতে পারতেন হাওকিপের পরিবর্ত হিসেবে নামা বিদ্যাসাগর। অসাধারণ দক্ষতায় তার শট বাঁচান বিপক্ষ কিপার আদিত্য পাত্র। সেই যাত্রায় বেঁচে গেলেও ঠিক ১২ মিনিট পরে দলের পতন আর আটকাতে পারেননি পাত্র। ৫৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা থ্রু বল ধরে বেরিয়ে আসেন ব্রেন্ডন। বেঁটে খাটো ব্রেন্ডনকে বিপক্ষ ডিফেন্স কোনও রকমে আটকালেও ফলো করে দুরন্ত প্লেসিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান সুপার সাব বিদ্যাসাগর। অবশ্য ম্যাচে সমতা ফিরতেই ফের একবার ডিফেন্সিভ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে বিএফসি। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ৭৩ মিনিটে ফের একবার গোল সেই বিদ্যাসাগরের। পরমুহূর্তেই লিড আরো এক গোলের হয়ে যেতে পারতো, যদিনা কোলাডোর শট সুন্দর দক্ষতায় বাঁচাতেন কিপার আদিত্য পাত্র। এরপর দুই দল গোল সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সফলতা কোনো দলই পায়নি। শেষমেষ ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে শেষ চারে চলে গেল ইস্টবেঙ্গল। কুড়ি তারিখ সেমিফাইনালে গোকুলামের বিরুদ্ধে খেলবে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: লালথামুইয়া, আশির, বোরহা, কোমল প্রীত, কোলাড, হাওকিপ, পিন্টু, কাশিম, ডিডিকা, অভিষেক, ব্রেন্ডন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here