পিয়ারলেসকে হারিয়ে খেতাবের স্বপ্ন মহামেডানের, আশায় ইস্টবেঙ্গলও

0
376
kolkata bengali news

মহামেডান – ২ পিয়ারলেস- ০

সায়ন মজুমদার: ময়দানের একটা ‘রীতি’ বেশ প্রচলিত। রেফারির কোনও সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলেই মাঠে বোতল পড়া অবধারিত। এদিন মহামেডান মাঠে প্রথম বোতল পড়লো ৩৫ মিনিটে, কর্নার না দেওয়ায়। তবে এই বোদহয় প্রথম দল গোল করায় আনন্দে মাঠে বোতল ছুঁড়লেন সাদা-কালো সমর্থকরা। সে যাই হোক। মাঠের ভেতর কিন্তু বেশ ভালো ফুটবল খেলে পিয়ারলেসকে হারালো মহামেডান। সেই সঙ্গে লীগের শীর্ষেও উঠে এলো সায়েদ রমেনের দল। আর পিয়ারলেস হারায় খেতাবি দৌড়ে বেশ সুবিধা পেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলও।

লিগ খেতাবের দৌড়ে থাকতে হলে জিততেই হবে, এমন পরিস্থিতিতে এদিন ম্যাচে কোনও বদলই করেননি মহামেডান কোচ সায়েদ রামেন। মোহনবাগানকে খেতাবি দৌড়ে ছিটকে দেওয়া প্রথম একাদশই এদিন পিয়ারলেস ম্যাচে নামিয়েছিলেন তিনি। এবার কলকাতা লিগে কাদায় ভরপুট মাঠেই নিজেদের ম্যাচগুলি খেলছিল মহামেডান। কিন্তু এদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে কাদা ছিল না। তবে মাঠ কিছুটা হলেও অসমান ছিল। বলে কন্ট্রোলেও কিছুটা সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা উপেক্ষা করেই দুরন্ত ফুটবল খেলল মহামেডান।

এদিন ম্যাচের শুরুটা বেশ আক্রমণাত্মক ঢঙেই করেছিল পিয়ারলেস। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর তৃতীয় প্রধানকেও চাপে ফেলতে শুরু করে জোহর দাসের দল। কিন্তু ঘড়ির কাটা যত এগোলো তত ম্যাচে ফিরল মহামেডান। তবে বলের দখল রাখলেও আক্রমণে সেইভাবে পজিটিভ সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ সাদা কালো ব্রিগেড। খেলাটা মূলত হল মাঝ মাঠে। আগের দিন মোহনবাগান বধের নায়ক তীর্থঙ্করকে এদিন বেশ চাপেই রেখেছিল পিয়ারলেস রক্ষণ। তিনি ফ্রি স্পেস কম পাওয়ায় আক্রমনেও ভাটা। যেটুকু হল, তাও মূলত চিডি কেন্দ্রিক। ফলে সেই সব সামলাতে খুব একটা বেগ পেতে হল না পিয়ারলেস ডিফেন্সকে। অন্যদিকে, পিয়ারলেস সহজতম সুযোগটি পেলো প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে। সাদা কালো ডিফেন্সের ভুল থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে যান দীপেন্দু দোয়ারী। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও প্রিয়ান্ত এর হাতে মারেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপায় দুই দল। ৫৪ মিনিটে নিজেদের বক্সে আগুয়ান উলফকে জার্সি টেনে ফেলে দেন মহামেডানের ওমালাজা। পেনাল্টি দিয়ে দ্বিধাবোধ করেননি রেফারি। কিন্তু অদ্ভুতভাবে স্পট কিক থেকে বল সাদা কালো জালের বদলে গ্যালারিতে বল পাঠান জীতেন মুর্মু। অবশ্য ৬১ মিনিটে কাঙ্খিত গোলটি পেয়ে যায় মহামেডান। পিয়ারলেসের বক্সে জটলার মধ্যে থেকে ছিটকে বেরিয়ামে আসা বল জোরালো শটে জালে জড়ান ওমালাজা। এর মিনিট আটকের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন চাংথে। তীর্থর লং বল ধরে সোলো রানে গোল করেন তিনি।

মহামেডানের প্রথম একাদশ: প্রিয়ান্ত, সুজিত, প্রসেনজিৎ, ওমালাজা, সৈফুল, মুসা, ফিরোজ, তীর্থঙ্কর, সত্যম, চাংথে ও চিডি।

পিয়ারলেস প্রথম একাদশ: জেমস, অভিনব, কিয়াতামবা, মনোতোষ, ফুলচাঁদ, প্রদীপ, এডমন্ড, পঙ্কজ, দীপেন্দু, জীতেন ও উলফ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here