সাহসী ভবানীপুরের লড়াইয়ে ফের পয়েন্ট নষ্ট ইস্টবেঙ্গলের

0
272
kolkata bengali news

ইস্টবেঙ্গল- ২ (পিন্টু, বোর্হা)         ভবানীপুর- ২ (কামো, জগন্নাথ)

সায়ন মজুমদার: গত বছর শঙ্করলাল ছিলেন মোহনবাগানের কোচ। আই লিগের প্রথম ডার্বিতে আলেহান্দ্রোর কাছে হারতে হয়েছিল বাঙালি কোচকে। সেই কারণে মোহন কোচের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। এবছর ভবানীপুরের দায়িত্বে তিনি। আর ছোট দলের দায়িত্ব নিয়ে গত বছরের বদলে এক অর্থে নিয়ে নিলেন শঙ্করলাল। না, ভবানীপুর ইস্টবেঙ্গলকে হারায়নি। কিন্তু, লাল-হলুদের মুখ থেকে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে আলেহান্দ্রো ব্রিগেডকে খেতাবি লড়াই থেকে কিছুটা বাইরেই বার করে দিলেন তিনি।

প্রতি ম্যাচের মতই এদিনও নিজের প্রথম একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন করেছিলেন আলেহান্দ্রো। আশীর, মার্তি, সামাদ, মনোজ ও রোহলুপুইয়ার জায়গায় দলে কামব্যাক করেন কমলপ্রীত, বোর্হা, ডিডিকা, অভিষেক ও মেহতাব। প্রসঙ্গত, গত ম্যাচে রেফারি নিগ্রহের কারণে নির্বাসিত থাকায় খেলতে পারেননি মেহতাব ও লালরিন্ডিকা রালতে। বরাবর নিজেদের ঘরের কাদা মাঠ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ আলেহান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া। কিন্তু আজ কল্যাণীর ঝকঝকে মাঠ পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি তিনি। বড় মাঠ হওয়ায় যথেষ্ট ছড়িয়ে খেলার সুযোগ পেলেন ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়রাও। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভের লাভ হল না। শঙ্করলাল চক্রবর্তীর ছেলেদের সাহসী ফুটবলের জেরে ফিকে হয়ে গেল লাল-হলুদের যাবতীয় জারিজুরি।

এদিন কল্যাণীর সুন্দর মাঠ পেয়ে শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে লাল-হলুদ। সেই সুবাদে ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। গোল করেন চলতি মরশুমে কিছুটা বর্ণহীন ফুটবল খেলা পিন্টু মাহাতো। চলতি কলকাতা লিগে এত তাড়াতাড়ি কোনও ম্যাচেই গোল করেনি শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবটি। গোল করার পর, আরও যেন আক্রমণের চাপ বাড়ায় আলেহান্দ্রো বাহিনী। পাল্টা অবশ্য মাঝে সাঝে আক্রমণে উঠছিল ভবানীপুরও। তবে শঙ্করলাল চক্রবর্তীর অন্যতম সেরা অস্ত্র ডোডোজকে বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন বোর্হা। তবে এদিন ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। ফলে ঘড়ির কাটা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের ঝাঁজ কিছুটা কমতে থাকে ইস্টবেঙ্গলের। অন্যদিকে, চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালায় ভবানীপুরও। তবে তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য মরিয়াভাবে আক্রমণ করা শুরু করে ভবানীপুর। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে বারবার আক্রমণে উঠছিল ভবানীপুর, কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে এসে সেই আক্রমণের খেই হারিয়ে ফেলছিল শঙ্করলালের দল। অবশ্য ৫৯ মিনিটে ক্রমাগত চাপ বাড়ানোর ফল মেলে। সুপ্রিয় পণ্ডিতের থ্রু বল ধরে জোরালো শটে দলকে সমতায় ফেরান কামো। এই নিয়ে নটি গোল করে ফেললেন তিনি। অবশ্য তার তিন মিনিট আগে ভবানীপুর বক্সের বাইরে থেকে ফ্রিকিক পেয়েছিল লাল-হলুদ। সেখান থেকে কোলাডোর বাঁকানো ফ্রিকিক বামদিকে ঝাঁপিয়ে দুরন্ত সেভ করেন ভবানীপুর কিপার অভিজিৎ। শঙ্করলালের দল সমতায় ফিরতেই বিপদ বুঝে ডিডিকার বদলে রোহলুপুইয়াকে নামান আলেহান্দ্রো। ৭৭ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লাল-হলুদ। পিন্টুর মাইনাস ক্লিয়ার করতে ভুল করে ভবানীপুর ডিফেন্স। বল পেয়ে যান একেবারে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মার্কোস। কিন্তু অদ্ভুতভাবে অভিজিতের সঙ্গে হ্যান্ডশেকিং দূরত্ব থেকে দিনের সহজতম সুযোগটি মিস করেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। অবশ্য শেষলগ্নে এসে ফের একবার এগিয়ে দেন ডিকার বদলে অধিনায়কের দায়িত্ব সামলানো বোর্হা। ৮৩ মিনিটে কোলাডোর ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তিনি। কিন্তু মাত্র দুই মিনিটের ভেতরেই জগন্নাথের দূর থেকে নেওয়া সেন্টার ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে বোকা বানিয়ে সোজা গোলে ঢুকে যায়। এরপর বাকি সময় চেষ্টা করেও আর লিড নিতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। এই ম্যাচে ড্রয়ের ফলে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়াল ৮ ম্যাচে ১৪। ভবানীপুর রইল লিগের দুই নম্বরে ও ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: লালথামুইয়া, বোর্হা, কমলপ্রীত, কোলাডো, নাওরেম, ডিডিকা, খুয়ান মেরা, বিদ্যাসাগর, অভিষেক, মেহতাব ও পিন্টু।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here