নিজস্ব প্রতিবেদন: মরশুমের শুরুতেই ঘটা করে ৪০০ কোটির ইনভেস্টর নিয়ে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। দীর্ঘদিন পর ক্লাবে ফিরেছিল ছন্দ, ঘটেছে খেলার আধুনিকীকরণ। কিন্তু সেই সুখের সংসার ছিল শুধু উপর উপরই। অন্দরে অন্দরে কোয়েস গ্রুপ ও ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের মধ্যে একটা ঠাণ্ডা লড়াই বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। কিন্তু সুপার কাপ না খেলা নিয়ে সেই দ্বন্দ্বই এবার প্রকাশ্যে চলে এল।

এআইএফএফের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আই লিগের ভবিষ্যৎ ঠিক কী, এই রকম একাধিক ইস্যুতে সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় কোয়েস ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মিনার্ভা পঞ্জাব সহ সাতটি আই লিগ ক্লাব। সেই মর্মে কোয়েসের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করাও হয়। কিন্তু এরপর থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত। বুধবার রাতে ইস্টবেঙ্গল কর্তা কল্যান মজুমদার পাল্টা মেইল করে জানান, ‘সুপার কাপ ইস্টবেঙ্গল খেলবে। কোনও টুর্নামেন্ট না খেলা ক্লাবের ঐতিহ্যের পরিপন্থী।’

 

এই প্রসঙ্গেই মহানগর২৪x৭ -এর পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয় লাল-হলুদের অন্যতম কর্তা রাজা গুহর সঙ্গে। তিনি জানান, ‘সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত আমাদের আঁধারে রেখেই নেওয়া হয়েছে। আমরা জানলে আগেই এর প্রতিবাদ আমরা করতাম। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সবসময় খেলার পক্ষে এবং আমরা তা খেলব।’

তবে কোয়েস কর্তা বনাম ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের এই সমগ্র ব্যাপারটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজা গুহ। এই ক্লাব কর্তা বনাম ইনভেস্টরের মনোমালিন্য কি আদতে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষতি করছে না, তা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। এটা সামান্য একটা ভুল বোঝাবুঝি। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা খুব শীঘ্রই কোয়েস কর্তাদের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনায় বসব। এই মর্মে অজিত আইজ্যাকের উদ্দেশ্যে ক্লাবের তরফ থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, আলোচনার পর সব ঠিক হয়ে যাবে। আর এই সুপার কাপ বয়কটের ডাক প্রথম যে দল দিয়েছে, সেই দলই (মিনার্ভা পঞ্জাব) সবার আগে ভুবনেশ্বর গিয়ে বসে আছে।’

একই প্রশ্ন করা হয়েছিল কোয়েস ইস্টবেঙ্গল সিইও সঞ্জিত সেনকে। তিনি খানিকটা ধাঁধা তৈরি করেই বলেন, ‘কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও সাফাইয়ের দরকার আছে বলে মনে করি না। আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই। এবার উপরে উপরে কোনও সমস্যা আছে কিনা আপনারা খুঁজে দেখুন। তবে সুপার কাপ খেলা প্রসঙ্গে বলতে পারি, আর একদিনের মধ্যেই সমস্ত চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ দুই তরফের দুই কর্তাই সমগ্র ঘটনাটিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিতে চাইলেও, আদতে এই ঘটনাটা যে স্রেফ ভুল বোঝাবুঝির নয়, তা বলাই বাহুল্য।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here