বিশেষ প্রতিবেদন: শেষ একমাস ধরে ক্লাবের সম্মান নিয়ে এক প্রকার ‘ছিনিমিনি’ খেলার পর অবশেষে সুপার কাপ খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিল কোয়েস ইস্টবেঙ্গল। আগামী ৩০ মার্চ সুপার কাপের প্রথম ম্যাচ। তার আগে সুপার কাপের জন্য খেলোয়াড়দের নথিভুক্ত করণের প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন কোয়েস কর্তারা। একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত মিলেছে মোহনবাগানের পক্ষ থেকেও। এর আগে বিদ্রোহী জোট থেকে বেড়িয়ে এসে সুপার কাপে খেলার কথা জানিয়েছিল চেন্নাই সিটি, রিয়াল কাশ্মীর, চার্চিল ব্রাদার্সের মতো আই লিগের শক্তিশালী দলগুলি।

আই লিগের ভবিষ্যৎ কী ও দেশের দুই লিগকে আগামী মরশুম থেকে কী উপায়ে সংযুক্ত করা হবে, সেই সব ইস্যু নিয়ে ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলের কাছে সময় চেয়েছিল আই লিগের নয়টি ক্লাব। কিন্তু প্রফুল্ল প্যাটেল অত্যধিক ‘ব্যস্ত’ থাকায় সময় দিতে পারছিলেন না। সেই জন্য ফেডারেশনের বিরোধিতা করে সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্রোহী জোট। অব্যবস্থা কাটাতে অবশেষে বিদ্রোহী ক্লাবগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানান ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট।

 

অন্যদিকে, কোয়েস কর্তাদের সুপার কাপ না খেলার একতরফা সিদ্ধান্ত একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ইস্টবেঙ্গলের আদি কর্তারা। তাঁরাও ইস্টবেঙ্গল প্রেসিডেন্ট একাদশ নামে সুপার কাপে খেলতে চেয়ে ফেডারেশনের কাছে আবেদন করে। যদিও এখন কোয়েস কর্তারা সুপার কাপে খেলার সিদ্ধান্তে শিলমোহর দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা আর নেই।

কিন্তু এতো কিছুর পরে লাল-হলুদের আদি ও নব্য, দুই কর্তাদের কাছেই আমাদের কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

১. প্রায় একশো বছরের ঐতিহ্য সমন্বিত একটি ক্লাব। একটি টুর্নামেন্ট খেলা নিয়ে গোটা দেশের সামনে এই টালবাহানা করাটা কি খুব প্রয়োজন ছিল? একটি টুর্নামেন্ট না খেললে যদি ক্লাবের সম্মান নষ্ট হতে পারে, তখন ইনভেস্টর বনাম ক্লাব কর্তাদের এই কদর্য লড়াই কি ক্লাবের সম্মান বাড়ালো?

২. আদি কর্তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, ফুটবল সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যখন কোয়েসের, তখন আপনাদের এই সরাসরি প্রতিরোধ করাটা কি খুব দরকার ছিল? আপনারা কি জানতেন না আই লিগে নথিভুক্ত দলই সুপার কাপে খেলতে পারে? তাহলে কোয়েস ইস্টবেঙ্গলকে টপকে ইস্টবেঙ্গল সভাপতি একাদশ যে সুপার কাপ খেলতে পারবে না, সেটা কি আপনাদের পোড় খাওয়া ফুটবল মস্তিষ্কে ধরা পরে নি?

৩. কোয়েস দলের দায়িত্ব নিয়েছে এক বছরও হয়নি। কল্যাণ মজুমদার, দেবব্রত সরকাররা আপনারা কি কোয়েস কর্তাদের আরেকটু সময় দিতে পারতেন না? বিশেষ করে এবছর যখন দল এতো সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিয়েছেন কোয়েস কর্তারা। তাঁরা অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন। দলের ক্ষতি মানে তাঁদের ক্ষতি। তাঁরাও এটা যে চাইবেন না, এটুকু তো আপনাদের বোঝা উচিৎ ছিল।

৪. না, একা দোষ আদি কর্তাদেরও দেওয়া যায় না। দোষ কোয়েস কর্তাদেরও সমান। এক মরশুম হয়েছে কোয়েসের নাম ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে কতবার কোয়েস কর্তারা ইস্টবেঙ্গলের কার্যকরী সভায় উপস্থিত হয়েছেন? একবারও না। কেন? উত্তর নেই কারো কাছে।

৫. দলটার নাম তো ইস্টবেঙ্গল। অথচ এক বছরে একবারও ঘরের মাঠে প্র্যাকটিস করল না ক্লাবের ফুটবল দল। একবারও মাঠে আসেন না দলের কোচরা। কেন? শুধু দলের সম্মান রক্ষাই আপনাদের দায়িত্ব নয়। ক্লাবের সম্মান রক্ষাও আপনাদের কর্তব্য। ক্লাবকে অবহেলা করে আপনি সমর্থকদেরও অবহেলা করেছেন।

৬. কোয়েস গ্রুপ একটি কর্পোরেট গ্রুপ। আপনারা জানেন কীভাবে মানুষের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে হয়। এই জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকেও সুন্দরভাবে ব্যবহার করেন আপনারা। অবশ্যই আপনারা ইস্টবেঙ্গল ফুটবল দলের জন্য এমন কিছু করেছেন যা আদি কর্তারা এতদিনে করে উঠতে পারেন নি। একই সঙ্গে আপনারা ক্লাবকেও অবহেলা করে গেছেন ক্রমাগত। এটা আপনাদের থেকে কখনই আশা করিনি আমরা। এই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্যই কোয়েস গ্রুপের নাম আজ সারা ভারতে। আপনারাও জানেন, ইস্টবেঙ্গলে আসার আগে কোয়েস গ্রুপকে বাংলার কত জন মানুষ জানতেন, তা আপনারা একটু বলতে পারবেন?

৭. কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসির বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের চার আদি কর্তাও আছেন। কিন্তু সুপার কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত আপনারা আদি কর্তাদের অন্ধকারে রেখে একতরফা ভাবে নিলেন কী করে? এইগুলি একেবারেই তুঘলকি আদবকায়দা, যা কোয়েস গ্রুপের তরফ থেকে আমরা আশা করিনি। পাশাপাশি, যে মিনার্ভা, চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ এনেছেন আপনারা, তাঁদের সঙ্গেই গলায় গলায় বন্ধুত্ব! দুটি দলের জন্য হাজার হাজার লাল-হলুদপ্রেমীর স্বপ্ন এক লহমায় ভেঙে গেল, তাঁদের সঙ্গেই সন্ধি করে আপনারা সমর্থকদের ভাবাবেগকেই আঘাত করলেন না তো?

আমরা জানি, একসঙ্গে থাকতে গেলে একটু ঠোকাঠুকি লাগেই। আগামী ২৮ মার্চ ইস্টবেঙ্গলের বোর্ড মিটিং। সেখানে বৈঠকে বসবেন কোয়েস ও আদি কর্তারা। সেখানে হয়তো মনমালিন্যও মিটে যাবে। অন্তত সেটাই হওয়া উচিৎ। ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির পথে কিছু ইগো সরিয়ে রেখে নাহয় আপনারা একসঙ্গেই এক পথে হাঁটুন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here