kolkata bengali news

ইস্টবেঙ্গল- ৩ (কোলাডো দুই, ডিডিকা) এরিয়ান- ০

সায়ন মজুমদার: পাস, পাস আর পাস। স্রেফ পাসিং ফুটবলের গোলকধাঁধায় এরিয়ানকে উড়িয়ে দিলো ইস্টবেঙ্গল। তবে তিন গোল হলো ঠিকই। স্কোরলাইন ৬-০ বা তার বেশি হলেও কিছু বলার ছিল না। বিপক্ষ গোলকিপার কাদের না থাকলে আরো কয়েক জোড়া গোলের মালা এরিয়ানকে পরাতে পারত লাল হলুদ। তবে এদিন যে দৃষ্টিনন্দন ফুটবলটি উপহার দিলেন আলেহান্দ্রোর ছেলেরা, তাতে বলাই যায় এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত সেরা খেলাটি খেলে ফেললো কোয়েস ইস্টবেঙ্গল। একই সঙ্গে ডার্বির আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়িয়ে ফেললো ইলিশ বাহিনী।

এদিন দলের প্রথম একাদশে শেষ ম্যাচের থেকে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন আলেহান্দ্রো। কমলপ্রীত, নাওরেম, মার্কোস, অভিষেক ও মেহতাবকে বদলে এদিন শুরু থেকে দলে আসেন আশীর, হাওকিপ, কাশিম, সামাদ ও মনোজ। জবি জাস্টিন চলে যাওয়ার পর বিদ্যাসাগরকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন ইস্ট সমর্থকরা। খুব সুযোগসন্ধানী এই খেলোয়াড়ের আজ কী হয়েছিল ভগবানই জানেন। হাফ ডজন গোলের সুযোগ পেয়েও একটিও গোল করতে পারলেন না তিনি।

যেকোনও বড় দলের বিরুদ্ধে ছোট দলের যা স্ট্র্যাটেজি হয়, সেই আল্ট্রা ডিফেন্সিভ ছকেই যে এরিয়ান খেলবে, তা সহজেই অনুমেয় ছিল। সেই জন্যই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। সেই লক্ষ্যে বলের দখল নেওয়ার পাশাপাশি বিপক্ষকে হতোদ্যম করার জন্য প্রচুর পাস নিজেদের মধ্যে খেলে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেই অনুপাতে গোলের পজিটিভ আক্রমণ করতে পারছিল না লাল হলুদ। একবার কাশিম আর বিদ্যাসাগর বেশ সহজ সুযোগ মিস করেন। এদিন প্রথমার্ধে যেন অন্য কোনো মানসিক অবস্থায় ছিলেন বিদ্যাসাগর। বেশ কয়েকবার সহজ গোলের সুযোগ মিস করলেন। এমনকি ৪১ মিনিটে যে গোলটি ডিডিকা করেন, সেই গোলটিও আসে বিদ্যাসাগরের সহজ সুযোগ মিস থেকেই। বাম প্রান্ত থেকে মনোজের মাইনাস পাস এমনভাবে বিদ্যাসাগর মিস করেন, যা দেখলে পাড়ার মাঠে খেলা বাচ্চারাও হাসবে। সে ভাগ্য ভালো বিদ্যাসাগরের মিস করা বল ডান প্রান্তে ধরেন ব্রেন্ডন। সঙ্গে সঙ্গেই ল্যাটারাল পাস করেন ডিডিকাকে লক্ষ্য করে। ঠান্ডা মাথায় তা গোলের ডান প্রান্তে প্লেস করে দলকে লিড এনে দেন অধিনায়ক ডিডিকা।

দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথম থেকে পাসিং ফুটবলেই জোর দেয় লাল হলুদ। প্রথম ৪৫ মিনিটের থেকেও বেশি পাসিং ফুটবল খেলে লাল হলুদ। ৫৭ মিনিটে আহত হাওকিপের জায়গায় রোনাল্ডো নামতেই আরও পাশের ফুলঝুড়ি এলো। নিজেদের মধ্যে স্প্যানিশ ঘরানার টিকিতাকা ফুটবল খেলে আক্রমণে যাচ্ছিলেন কোলাডো, বিদ্যসাগররা। ৬১ মিনিটে রোনাল্ডোর সঙ্গে এরকমই ওয়ান টু ওয়ান পাস খেলে ব্যবধান দ্বিগুন করেন কোলাডো। এরপর অবশ্য শুরু হলো গোল মিসের প্রতিযোগিতা। রোনাল্ডো, সামাদ, সবাই এসে একটি করে গোলের সুযোগ মিস করে গেলেন। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিদ্যাসাগরের। দ্বিতীয়ার্ধে চার থেকে পাঁচটি গোলের সহজ সুযোগ পেলেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই বিপক্ষ কিপার কাদেরের হাতে আটকে গেল বিদ্যাসাগরের সব কারিকুড়ি। খেলা শেষের মিনিট দুয়েক আগে আরও একটি গোল করেন সেই কোলাডো।

অন্যদিকে, কল্যানীতে জিতলো মোহনবাগানও। বিএসএসকে ২-১ গোলে হারালো সবুজ মেরুন বাহিনী। মোহনবাগানের হয়ে গোল করলেন সালভাদর ও নাওরেম। বিএসএসের গোলদাতা ওপোকু।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: লালথামুইয়া, আশীর, কোলাডো, হাওকিপ, কাশিম, ডিডিকা, ক্রেসপি, সামাদ, বিদ্যাসাগর, ব্রেন্ডন, মনোজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here