কালীঘাটকে গোলের মালা পরিয়ে জয়ের সরণিতে ইস্টবেঙ্গল

0
149
kolkata bengali news

ইস্টবেঙ্গল – ৪ (কোলাডো দুই, বিদ্যাসাগর, তুহিন আত্মঘাতী)                                                কালীঘাট- ২ ( তুহিন শিকদার, রাহুল)

সায়ন মজুমদার: কয়েকদিন আগেই পিয়ারলেসের কাছে অবাক হারের পর উত্তাল হয়েছিল লাল হলুদ গ্যালারি। গ্যালারি থেকে আলেহান্দ্রো বিরোধী আওয়াজও উঠেছিল। এদিন ফের একবার উত্তাল হল লাল হলুদ গ্যালারি। তবে জয়ের আনন্দে। দুর্বল কালীঘাটের বিরুদ্ধে ছন্দময় পাসিং ফুটবল খেলে জয়ে ফেরার পাশাপাশি পাহাড়প্রমাণ চাপ থেকেও মুক্তি পেল লাল হলুদ। আর এই জয়ে লাল হলুদ জনতার নতুন নয়নের মণি হিসেবে উঠে এলেন খুয়ান মেরা গঞ্জালেস।

কলকাতা লিগকে প্রথম থেকেই সব ফুটবলারকে দেখে নেওয়ার টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছেন আলেহান্দ্রো। সেই মতো এদিনও নটি পরিবর্তন করেছিলেন লাল হলুদের স্প্যানিশ কোচ। লালথামুইয়া ও পিন্টু ছাড়া বাকি সকলেই আগের ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলেন না। এদিন আবার প্রথমবার শুরু থেকে খেলেন খুয়ান মেরা। আর তিনি যে ৭০ মিনিট মাঠে ছিলেন, বুঝিয়ে দিলেন তিনি ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠ কাঁপাতে তৈরি। বল ডিস্ট্রিবিউশন যেমন ধারালো, তেমন বল কন্ট্রোলও খুব ভালো। কাঁদা মাঠেই যা সুন্দর ফুটবল খেললেন তিনি, তাতে যুবভারতীতে যে আরও ভয়ানক হয়ে উঠবেন তিনি, তা বলাই যায়।

এদিন দুর্বল কালীঘাটের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ম্যাচের দখল নিতে ঝাঁপায় লাল হলুদ। গত পিয়ারলেস ম্যাচে যে জড়তা খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা গিয়েছিল, এদিন সেই জড়তা উধাও। বরং পাসিং ফুটবল খেলে বিপক্ষ বক্সে বারবার হানা দিচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের সাত মিনিট নাগাদ খুয়ানের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল প্রায় করেই ফেলছিলেন কোলাডো। দুর্ভাগ্যবশত তার হেডার অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরেও অবশ্য খুয়ান, কোলাডো ও বিদ্যাসাগর বারবার দুরন্ত পাসিং ফুটবল থেকে বিপক্ষ ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরাচ্ছিলেন। কিন্তু ৩৭ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে কালীঘাটকে এগিয়ে দেন সুপার সাব তুহিন শিকদার। যদিও সেই লিড মাত্র মিনিট চারেকের জন্য ধরে রেখেছিল কালীঘাট। ৪১ মিনিটে খুয়ানের কর্নার কালীঘাট এম এস বক্সে এসে পড়লে পায়ের জঙ্গলের মাঝখান থেকে জোরালো শটে দলকে সমতায় ফেরান বিদ্যাসাগর।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার মিনিট পাঁচেক একটু ঢিমেতালে খেলার পর ফের আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লাল হলুদ। ৫৯ মিনিটে খেলায় লিড নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ডান প্রান্ত থেকে পিন্টুর মাইনাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের গোলেই বল ঢুকিয়ে দেন তুহিন দাস। ৬৫ মিনিটে বিদ্যাসাগরের মারা বল কালীঘাট ক্লিয়ার করলে তা এসে পড়ে কোলাডোর পায়ে। সেখান থেকে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন স্প্যানিশ তরুণ। এরপরের মুহূর্তেই আশীরের মাথায় লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন কালীঘাটের কোয়েসী। বিপক্ষ দশ জন হয়ে যাওয়ার ফলে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ায় লাল হলুদ। ৮২ মিনিটে একক দক্ষতায় চতুর্থ গোলটিও সেই কোলাডোরই। অবশ্য তার এক মিনিট আগে একটি গোল করেন কালীঘাটের রাহুল।

অন্যদিকে, কল্যাণীতে এরিয়ানের কাছে ২-১ গোলে হারলো মোহনবাগান।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: মাউইয়া, আশীর, কোলাডো, পিন্টু, নাওরেম, মার্তি, খুয়ান মেরা, সামাদ, বিদ্যাসাগর, মনোজ ও রোহলুপুইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here