kolkata bengali news

ইস্টবেঙ্গল- ৩ (পিন্টু, কোলাডো পেনাল্টি, মার্কোস) মহামেডান- ২ (ওমালাজা, কোফি)

সায়ন মজুমদার: সারাদিন বৃষ্টি, বিপক্ষকে প্রায় ৫০ মিনিট দশজনে পাওয়া, ছন্দময় ফুটবল আর চওড়া ভাগ্য। লক্ষীবারের বিকেলে এই পাথরগুলিতে ভর করেই মহামেডান বাধা টপকালো ইস্টবেঙ্গল। তবে মহামেডান হারলেও অবশ্যই কুর্নিশ জানাতে হয় তাদের লড়াইকে। গোটা দ্বিতীয়ার্ধ দশ জনে খেলেও সমানে সমানে লড়াই করে ইস্টবেঙ্গলকে চাপে ফেলে দিয়েছিল দীপেন্দু বিশ্বাসের দল। তবে একগোলে জিতে খেতাবের আরো এক পা কাছে পৌঁছে গেল আলেহান্দ্রো বাহিনী। অন্যদিকে, পয়েন্ট খুইয়ে মহামেডানের খেতাবের স্বপ্ন শেষ।

এদিনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন করেছিলেন লাল হলুদ কোচ আলেহান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া। মার্তি, আশীর, মার্কোস, রোহলুপুইয়া, সামাদকে বাইরে রেখে প্রথম একাদশে খেলান বোরহা, কমলপ্রীত, কোলাডো, ডিডিকা ও মেহতাব। অন্যদিকে মোহনবাগান ও পিয়ারলেসকে হারানো দলই এদিন ম্যাচে খেলান মহামেডান কোচ সায়েদ রামেন। মোহনবাগান-মহামেডান ম্যাচের মতোই এদিনও নিরাপত্তার স্বার্থে খুব অল্প সমর্থকদেরই মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। তবে যে কয়েক হাজার সমর্থক এসেছিলেন তার সিংহভাগই মহামেডানের। গোটা ম্যাচ বৃষ্টিতে ভিজেই ম্যাচ দেখলেন তারা। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা খুব একটা মাঠমুখী হননি (হয়তো তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত ছিলেন!)।

যুবভারতীর বড় মাঠে এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলা শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ছন্দময় ফুটবল খেলে বেশ কিছু আক্রমণও তুলে আনছিলো লাল হলুদ। সেই সুবাদেই ১২ মিনিটে সুন্দর একটি মুভমেন্ট থেকে গোল পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ডান প্রান্ত থেকে কমলপ্রীতের লো ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন পিন্টু। তবে গোল খাওয়ার পরেই কিছুটা ফাইট ব্যাক করে মহামেডানও। ২৩ মিনিট নাগাদ ইস্টবেঙ্গল বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পায় সাদা কালো ব্রিগেড। সেখান থেকে ওমালাজার শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন বোরহা। অবশ্য মহামেডানকে ম্যাচে সমতায় ফিরিয়েই চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যান ইস্ট ডিফেন্সের মূল স্তম্ভ। অবশ্য এর আগে একবার সত্যমের শট ইস্টবেঙ্গল বার কাঁপিয়ে চলে যায়। ৪৩ মিনিটে ডিডিকার কর্নার থেকে হেডে গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন কোলাডো। কিন্তু গোললাইন থেকে বল বাঁচাতে গিয়ে হ্যান্ডবল করেন সৈফুল। সঙ্গে সঙ্গে রেডকার্ড ও পেনাল্টি। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে ফের এগিয়ে দেন কোলাডো।

প্রথমার্ধে এক গোলের লিড ও বিপক্ষ দশ জনে হয়ে যাওয়ায় আশা করা হয়েছিল বিরতির পর শুরু থেকেই দাপটের সঙ্গে খেলবে লাল হলুদ। কিন্তু হল উল্টো। ৪৯ ও ৫১ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তীর্থঙ্কর ও সত্যম। এরপরেই পিন্টুকে তুলে মার্কোসকে নামান আলেহান্দ্রো। আর নামার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই গোল করেন তিনি। ৫৯ মিনিটে ডিডিকার মাইনাস থেকে দলের হয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মার্কোস। দুই গোলে লিড নেওয়ার পর কিছুটা হলেও হালকা ভাবে খেলে ইস্টবেঙ্গল। সেই সুবাদে শেষ দশ মিনিট আক্রমণের ঝড় তোলে মহামেডান। ৮১ মিনিটে হঠাৎ করেই কোফির জোরালো শটে গোল ব্যবধান কমায় মহামেডান। এরপরও আরও বেশ কিছু আক্রমণ কাঁপিয়ে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। যদিও স্কোরবোর্ডে কোনও পরিবর্তন হয়নি। শেষ মুহূর্তে কোফির একটি শট আবার বারে লাগে।

ম্যাচের পর দীপেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘পেনাল্টি যেটা হয়েছে, সেটা আমাদের মনে হয়েছে আগে গোল হয়ে গিয়েছে। ফলে লাল কার্ড না দেখালেও পারতেন। কিছু করার নেই। সব ম্যাচ জেতা যায় না। দশজনে হয়ে যাওয়ার পরও আমরা লড়াই করেছি। প্রথমার্ধে তীর্থঙ্করকে খেলতে দেয়নি ইস্টবেঙ্গল। আর বিরতিতে আমি আর কোচ ছেলেদের বলেছিলাম দশজনেও ম্যাচ জেতা যায়। আর শুনলাম সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা কোয়ালিফাই করেছে। তাই আশা করবো আমার দলের বাঙালি খেলোয়াড়রা বাংলার হয়ে ডাক পাবে।’

অন্যদিকে আলেহান্দ্রো বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি লিগ শেষে বোঝা যাবে আমার দল কেমন। শেষ দশ মিনিট ওরা বেশ ভালো খেলেছে। তবে তার আগে পর্যন্ত আমরাই ডমিনেট করেছি। দলের খেলায় আমি খুশি। মহামেডানের কাছে হারানোর কিছু ছিল না। তাই ওরা অল আউট আটাক করতে পেরেছে। এখন আমরা শেষ ম্যাচ জিততে চাই। দেখা যাক খেতাব জিততে পারি কিনা। আর বোরহার হাঁটুর চোট বেশ ভালোই। হাটু ফুলেছে।’

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: লালথামুইয়া, বোরহা, কমলপ্রীত, কোলাডো, পিন্টু, নাওরেম, রোনাল্ডো, ডিডিকা, খুয়ান মেরা, অভিষেক ও মেহতাব

মহামেডান প্রথম একাদশ: প্রিয়ান্ত, সুজিত, প্রসেনজিৎ, ওমালাজা, সৈফুল, মুসা, ফিরোজ, তীর্থঙ্কর, সত্যম, চাংথে ও চিডি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here