ট্রাউয়ের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের মান বাঁচালেন মার্কোস

0
eb news

ইস্টবেঙ্গল- ২ (মার্কোস, ক্রেস্পি)    ট্রাউ- ১ (দীপক)

নিজস্ব প্রতিবেদন: না, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ফেসবুক থেকে মুখ লোকাতে হচ্ছে না। এর জন্য তাঁরা ধন্যবাদ জানাতেই পারেন মার্কোসকে। একটি গোল করলেন, আরেকটি করালেন। আর সেই সুবাদেই ট্রাউকে কোনওরকমে হারাল ইস্টবেঙ্গল। এই ট্রাউকেই কিন্তু কয়েকদিন আগে চার গোল দিয়েছিল মোহনবাগান। সেই ট্রাউকেই হারাতে ঘেমে নেয়ে একসার লাল হলুদ ব্রিগেড। মাঝমাঠে কোলাডোর উপস্থিতি যে কতটা দরকার এই ম্যাচে তা প্রমাণ হয়ে গেল। তবে ২২ তারিখ ডার্বির আগে এই জয় অবশ্যই আত্মবিশ্বাস যোগাবে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল শিবিরকে।

শাস্তির কারণে এদিন ম্যাচে ছিলেন না ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের মূল স্তম্ভ কোলাডো। তাই এদিন রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন আলেহান্দ্রো। এই একটি পরিবর্তন ছাড়া বাকি প্রথম একাদশ আগের ম্যাচের তুলনায় একই ছিল। লাল হলুদের স্প্যানিশ কোচ এদিন দল সাজিয়েছিলেন ৪-৪-২ ছকে। সামনে মার্কোসের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন রোনাল্ডোকে। আর মাঝমাঠে কমলপ্রীত, কাশিম, খুয়ান ও পিন্টু। অন্যদিকে, ট্রাউ দলে ছয়টি পরিবর্তন করেছিল। মার্সেল ও তিতেকেও বাইরে রেখেছিলেন ডগলাস। অবশ্য তাতে কিন্তু বেশ ভালই হল ট্রাউয়ের জন্য। পাহাড়ি দলটির স্বদেশী ছেলেদের দৌলতে মোহনবাগান ম্যাচের ট্রাউ আর এই ম্যাচের ট্রাউ যেন একেবারে আলাদা। অনেক বেশি দৌড়ে ইস্টবেঙ্গলকে নাজেহাল করে দিল তারা।

মোহনবাগানের বিরুদ্ধে যেভাবে ওপেন ফুটবল খেলেছিল ট্রাউ, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও শুরু থেকেই সেই একই খেলা খেলল পাহাড়ি দলটি। ফলে শুরু থেকে দৌড়নোর সুযোগ পেলেন লাল হলুদ খেলোয়াড়রা। মাত্র ৮ মিনিটেই প্রথম গোলটি পেয়ে যেতে পারত লাল হলদু। সামাদের দূরপাল্লার শট ক্রস পিসে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপরে ১৫ মিনিটে ট্রাউ কিপার গোল ছেড়ে এসে বল ক্লিয়ার করতে গেলে তা এসে পরে মার্কোসের পায়ে। স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের লব গোলের মুখ থেকে কোনও রকমে সেভ করেন ট্রাউ ডিফেন্ডার। যদিও এর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই প্রথম গোলটি করে ফেলেন সেই মার্কোস। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে সামাদের সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান স্প্যানিয়ার্ড। এরপর পিন্টু একটি ওপেন হেডার মিস করেন। প্রথম দিকে ট্রাউ কিছুটা সমানে সমানে লড়াই চালালেও সময় যত এগিয়েছে, তত ট্রাউকে চেপে ধরেছে লাল-হলুদ। তৈরি হয়েছে মুহুর্মুহু আক্রমণ। কিন্তু ওই আক্রমণের চক্করেই চলে আসে ডিফেন্সে শৈথিল্য। আর সেই সুযোগে প্রথমার্ধের শেষলগ্নে হঠাৎ এক পাল্টা অ্যাটাক থেকে গোল করে যায় ট্রাউ। ফাল্গুনী সিংয়ের দিশাহীন শটে পা লাগিয়ে গোলে পাঠিয়ে দেন দীপক। আর সেই সময় লাল হলুদ ডিফেন্ডাররা স্রেফ তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আবার কিছুটা যেন অগোছালো হয়ে পরে লাল হলুদ। অন্যদিকে, বেশ গুছিয়ে বেশ কিছু আক্রমণ চালায় ট্রাউ। ইস্টবেঙ্গল ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তাদের আক্রমণ যেন কিছুতেই দানা বাঁধছিল না। আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোলাডো-মেরা যুগলবন্দীর অভাব বারবার চোখে পরছিল। নিচ থেকে বলের অভাব ঢাকতে বারবার নিজেদের অর্ধে নেমে আসতে হচ্ছিল খুয়ান মেরাকে। তিনি যত ভালই খেলোয়াড়রা হন না কেন, মেশিন তো নন। বারবার নিচ থেকে নেমে উপরে আক্রমণ তৈরি করতে গিয়ে বেশ প্রভাব পরল তাঁর পারফরম্যান্সে। তাও ৬৪ মিনিটে ক্রেস্পির লং বল ডান পায়ে রিসিভ করে বাম পায়ে দুরন্ত শট নিয়েছিলেন মার্কোস। কিন্তু তা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দল যে ক্রমশ চাপে পরে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেই জোড়া পরিবর্তন করেন আলেহান্দ্রো। পিন্টু ও কমলপ্রীতকে বসিয়ে নামিয়ে দেন অভিজিৎ ও বিদ্যাসাগরকে। অন্যদিকে, ডগলাসও নামিয়ে দেন দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড তিতে ও মার্সেলকে। দুই বিদেশি নামায় যেন কিছুটা আক্রমণে ভাটা পরে ট্রাউয়ের। যেই সময় মনে হচ্ছিল কল্যাণী থেকে প্রথম পয়েন্ট পেতে চলেছে মণিপুরের দলটি, ঠিক সেই সময়ে ভাগ্যদেবতা সহায় হলেন লাল-হলুদের জন্য। ৮৮ মিনিটে একটি সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে বল ক্রেস্পির জন্য সাজিয়ে দেন মার্কোস। সেই বল বিপক্ষ জালে জড়াতে ভুল করেননি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ট্রাউ। এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে চলে এল ইস্টবেঙ্গল।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: মাউইয়া, অভিষেক, ক্রেস্পি, আশীর, সামাদ, কমলপ্রীত, কাশিম, খুয়ান মেরা, রোনাল্ডো, পিন্টু ও মার্কোস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here