eastbengal vs mohunbagan derby still in doubt
নবান্নে ইস্ট-মোহন ডার্বি, রেফারির ভূমিকায় মমতা, বল গেল ফেডারেশনের কোর্টে

মহানগর ওয়েবডেস্ক: আগামী রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আই লিগের ‘প্রাণহীন’ বড় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের৷ করোনা আতঙ্কে আদৌ এই মহারণ হবে কি হবে না সেই নিয়ে ছিল তীব্র সংশয়৷ গতকাল জানা যায় যে, আজ অর্থাৎ শুক্রবার বিকালে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন৷ আর তারপরেই এর সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে৷

সমাধান তো দূরের কথা, উল্টে এদিন বিকালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরটাই যেন এক টুকরো সল্টলেক স্টেডিয়ামে পরিণত হল৷ রীতিমতো বাকযুদ্ধের ডার্বি খেললেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার (নিতু) ও মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসু (টুম্পাই)৷ কড়া রেফারির মতোই শক্ত হাতে ‘ম্যাচ’ পরিচালনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যদিও নিতু বনাম টুম্পাইয়ের লড়াইয়ের নিটফল নিস্ফলা৷ নবান্ন থেকে বল গেল সোজা সর্বভারতীয় ফেডারেশনের কোর্টে৷

এদিন কী নিয়ে ঝামেলা বাঁধল নিতু-টুম্পাইয়ের? গতকালই ইস্টবেঙ্গল জানিয়েছিল যে, তারা কোনও মতেই ফাঁকা যুবভারতীতে ডার্বি খেলবে না৷ হাইভোল্টেজ ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া পক্ষেই রায় ছিল লাল-হলুদের৷ আর মোহনবাগান গান গেয়েছিল ঠিক অন্য সুরে৷ তারা বলেছিল ফাঁকা মাঠে আর র্নিধারিত দিনে ডার্বি খেলবে তারা৷

এদিন সৃঞ্জয় বসু জানান যে, আইএসএল ফাইনাল হচ্ছে ফাঁকা মাঠে। তাহলে বড় ম্যাচও দর্শকশূন্য হতেই পারে৷ এক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হওয়ার কথ নয়৷ এরপরেই ফোঁস করে ওঠেন নিতু৷ তাঁর বক্তব্য, গতবারও ডার্বি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেই৷ তিনি যোগ করেন প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছিল ১৫ হাজার দর্শক নিয়ে বড় ম্যাচ করতে৷ সেবার মোহনবাগান রাজি হয়নি৷ তাহলে এবারও একমাস পিছিয়ে দেওয়া যেতেই পারে৷

নিতু-টুম্পাই কেউই তাদের ম্যাচ নিয়ে মতাদর্শ থেকে সরেননি৷ মোহনাবাগানের পক্ষ থেকে টুম্পাই বলেন, ডার্বি টিভিতে দেখতে পারবেন সমর্থকরা৷ কিন্তু আই-লিগ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশন সরকারি ভাবে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন বলবে না, ফলে সমর্থকরা তাঁদের ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছেন৷ এটারও পাল্টা উত্তর তৈরি ছিল নিতুর৷ তাঁর দাবি আইএসএল সম্প্রচার করছে স্টার৷ ফলে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তেই এই ম্যাচ দেখা যাবে৷ কিন্তু ডার্বির সম্প্রচারের দায়িত্বে যারা তারা সব জেলায় ঠিক মতো খেলা দেখাতে অসামর্থ৷

পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, বৈঠকে উপস্থিত ফেডারেশনের প্রতিনিধি সুব্রত দত্তকেও মমতা ধমকে দেন৷ তিনি বলেন ফুটবল নিয়ে বাংলার আবেগটা বুঝতে৷ এমনকী তিনি বলেন ভাইরাস ছড়ালে তাঁর দায়িত্ব কিন্তু ফেডারেশনকে নিতেই হবে৷ মমতা শুরু থেকেই ফাঁকা মাঠে ম্যাচ করার পক্ষপাতী ছিলেন৷ তিনি বৈঠকের মাঝেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে ধুতে বলেছিলেন, “করোনা ভাইরাস কিন্তু মাঠেই ঘুরবে৷ ওকে তো ড্রেসিংরুমে রেখে আসা যাবে না৷” সুব্রত বাবু বৈঠকে বসেই ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল প্যাটেলকে ফোন করে বসেন৷ কিন্তু তাঁকে ফোনে ধরতে না-পেরে সচিব কুশল দাসকে ফোন করেন সুব্রতবাবু৷ তিনি মমতাকে আশ্বস্ত করেন যে, প্রফুল প্যাটেল ফোন করে কথা বলবেন৷

এদিন বৈঠকে ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তিকেই সমর্থন করেছিলেন মমতা৷ বাকবিতণ্ডা এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল, যে মমতা বলে বসেন, “টুম্পাই আমি তোমার কথা বেশি শুনছি মানে এই নয় যে তুমি অ্যাগ্রেসিভ হবে। এটা কিন্তু ঝগড়াঝাটি করার জায়গা নয়। তাহলে বৈঠকেরই কোনও মানে হয় না৷” নিতু শেষে বলেন মমতা যা বলবেন তাঁরা সেটাই মেনে নেবেন৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলে দেন, তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না৷ সবটাই প্রফুল অ্যান্ড কোং ঠিক করুক৷

বৈঠকের পর পরিস্থিতি যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে সেখানে রাজ্যে ক্রিকেট ফুটবল সহ বিভিন্ন খেলার ইভেন্ট ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ ফের ক্রীড়া সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা৷ তারপরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here