kolkata bengali news

ইস্টবেঙ্গল- ৪ (কোলাডো দুই, খুয়ান মেরা, মার্কোস) নেরোকা- ১ (বৌবাকার)

নিজস্ব প্রতিবেদন: অবশেষে আই লিগে প্রথম জয় পেল কোয়েস ইস্টবেঙ্গল। আর সেই জয়ও এল বেশ বড় ব্যবধানে। কোলাডো-খুয়ান-মার্কোস জুটিতে ভর করে নেরোকা বধ লাল হলুদের। সেই সঙ্গে পাহাড় জয় করে লিগ টেবিলের তিন নম্বরেও উঠে এল কলকাতার অন্যতম প্রধান। একই সঙ্গে মাঠের বাইরের নানা সমস্যায় জর্জরিত দলও আগামী ম্যাচের জন্য অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও পেল আলেহান্দ্রো বাহিনী।

গত দুই ম্যাচে জয় না আসায় এদিন দলে দুটি পরিবর্তন করেছিলেন আলেহান্দ্রো। মেহতাব ও নাওরেমের জায়গায় প্রথম একাদশে এসেছিলেন আশীর ও কমলপ্রীত। পাশাপাশি ৪-৩-৩ ছকের বদলে ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন তিনি। আক্রমণে মার্কোসকে সামনে এক রেখে পিছনে জুড়ে দিয়েছিলেন খুয়ান, পিন্টু ও কোলাডো। প্রথম ম্যাচে যতটা প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছিল ইস্টবেঙ্গল, তার মতো না হলেও এদিন বেশ ভালোই খেললেন খুয়ান মেরা, কাশিম আইদারারা। পঞ্জাব ম্যাচের ক্লান্তি কিছুটা হলেও কাটিয়ে এদিন অনেকটাই চনমনে লাল হলুদ ব্রিগেড। তবে ডিফেন্স নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে আলেহান্দ্রো মেনেন্ডেজ গার্সিয়াকে। যেভাবে নেরোকার দুই লম্বা চেহারার স্ট্রাইকার বেশ কয়েকবার ফ্রি হেডার দিয়ে গেলেন, তাতে আগামীদিনে বেশ সমস্যায় পড়তে হতে পারে দলকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন মার্কোস। মাঠের বাম প্রান্ত থেকে মেরার মাপা সেন্টার ঠিক করে হেডে কানেক্ট করতে ব্যর্থ হন লাল হলুদের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। এর মিনিট পাঁচেক পরেই খুয়ানেরই কর্নার থেকে ক্রেসপির হেডার একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৫ মিনিটে আরো একটি গোলের সুযোগ চলে আসে। নেরোকা গোল রক্ষক বেশিক্ষন বল পায়ে রাখায় মার্কোস প্রায় তার থেকে বল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। নেরোকা কিপারের ক্লিয়ার করা বল মার্কোসের পায়ে লেগে গোলের বাইরে চলে যায়। তবে ক্রমাগত চাপ বজায় রাখার সুফল পায় ইস্টবেঙ্গল। ১৯ মিনিটে নিজেদের বক্সে খুয়ান মেরাকে ফাউল করেন নেরোকা ডিফেন্ডার রোনাল্ড সিং। স্বাভাবিক ভাবেই পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে লাল হলুদকে এগিয়ে দেন কোলাডো। যদিও ইস্টবেঙ্গলের লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩১ মিনিটে সেন্টার থেকে হেডারে গোল করেন চলে যান নেরোকার বৌবাকার। অদ্ভুদ ব্যাপার সেই সময় বৌবাকারকে কোনও লাল হলুদ ডিফেন্ডার আটকানোর চেষ্টাই করেননি। তবে সাময়িক সেই ভুল মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই শুধরে নেন খুয়ান মেরা। নেরোকা বক্সের ঠিক বাইরে থেকে তার বাম পায়ের বাক খাওয়ানো ফ্রিকিক সোজা গোলে ঢুকে যায়।

প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের গোল করে ইস্টবেঙ্গল। ৫০ মিনিটে এক নেরোকা ডিফেন্ডার বক্সে হ্যান্ডবল করায় দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় লাল হলুদ। এবারও স্পটকিক থেকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন সেই কোলাডো। তবে প্রথম গোলের পর যে শৈথিল্য কিছুটা গ্রাস করেছিল লাল হলুদ ডিফেন্সকে, তেমনই করলো তৃতীয় গোলের পরও। সেই সুযোগে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানায় নেরোকা। ৬১ মিনিটে চামসের শট সাইডবারে লেগে ফেরে। অবশ্য এর মিনিট তিনেক পরেই আরো ব্যবধান বাড়ায় শতবর্ষে পা দেওয়া ক্লাবটি। পিন্টুর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল মার্কোসের। তবে চার গোল করার পরও কিন্তু আক্রমণের ঝাঁজ কমায় নি মশাল বাহিনী। একবার কোলাডোর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আরেকবার অভিষেকের শট বাঁচান ফিলিপ। শেষ দশমিনিট নেরোকা একটু চাপ বাড়ালেও স্কোরবোর্ডে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: মাউইয়া, অভিষেক, ক্রেসপি, আশীর, সামাদ, কমলপ্রীত, কাশিম, খুয়ান মেরা, কোলাডো, পিন্টু ও মার্কোস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here