নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ পবিত্র খুশির ঈদ। তবে এবছরের চিত্রটা অন্যরকম। কলকাতার রেড রোড উৎসব শূন্য। জাকারিয়া স্ট্রিটে নেই খাবারের পসার। কাবাব, সেমুইয়ের জন্য লাইনের হুড়োহুড়ি নেই। মারণ ভাইরাস করোনার জেরে চলছে লকডাউন পর্ব। তবে উৎসব থেমে থাকে না। তাই এবছর উৎসব পালন হচ্ছে চার দেয়ালের মধ্যেই। পয়লা বৈশাখ, অক্ষয় তৃতীয়ার পর এবার ঈদের উৎসব পালন চলল বাড়িতে বসেই। বাড়িতেই নমাজ পড়লেন সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

সোমবার সকালে নিজের বাড়িতে বসেই নামাজ পড়লেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একইভাবে বাড়িতে বসে উৎসব পালন করলেন সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি ও রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা সেলের সভাপতি আলী হুসেন। এদিন সকালেই দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধরা পড়ল ঈদের অন্যরকম ছবি। মিলন উৎসবে বজায় থাকল সামাজিক দূরত্ব। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী আলিঙ্গন, হাত মেলানো থেকে এদিন বিরত থাকলেন সকলেই।

সারা দেশের মতো কলকাতাতেও বন্ধ মসজিদ। তাই সপরিবারে বাড়িতে বসেই প্রার্থনা সারলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, এরকম ভাবে ঈদ পালন আগে কখনও করেননি। স্নান সেরে, নতুন পোশাক পরে মসজিদে ঈদের নমাজ পড়তে যাওয়া, এই অভ্যেস তাঁর ছোট থেকেই। এবার ব্যতিক্রম ঘটল। মন খারাপ নিয়েই তিনি বললেন, ‘পৃথিবী সঙ্কটের মুখে, এ-ছাড়া উপায় নেই।’ একইভাবে এদিন নগরবাসীকে জমায়েত না করার জন্য আবেদন জানান রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা সেলের সভাপতি আলী হুসেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, বাড়িতে বসেই ঈদ পালন করার জন্য শহরবাসীর কাছে আবেদন জানান তিনি। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি ঈদের আগেই জানান, ‘অতিমারীর কারণে এই প্রথম আমরা ঈদ-উল-ফিতরের প্রার্থনা ও উদযাপন দু’ই-ই পালন করব বাড়িতে বসে। তবে এতে উৎসবের উদযাপনে কোনও ঘাটতি হবে না।’

রাজনৈতিক নেতা থেকে ইমামরা, প্রত্যেকেই বারবার অনুরোধ করেছিলেন এবার ঈদ পালন করুন বাড়ি থেকেই। দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম সঈদ আহমেদ বুখারি ঈদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন জানান, ‘করোনা সতর্কতা মেনেই উৎসব পালন করুন। আলিঙ্গন, হাত মেলানো থেকে বিরত থাকুন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here