মহানগর ডেস্ক: নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। এডিজি আইন-শৃঙ্খলা পদ থেকে জাভেদ শামিম কে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হল দমকলের ডিজি জগমোহনকে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজ্যপাল মারফত বদলির বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই তীব্র চাপানুতোর শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বিজেপির ‘নির্দেশেই’ যে এই কাজ করেছে কমিশন, এমনটাই অভিযোগ তুলছে তৃণমূল।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের এডিজির আইন-শৃঙ্খলা পদে কিছুদিন আগেই নিয়ে আসা হয় জাভেদ শামিমকে। অন্যদিকে, রাজ্যের একাধিক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানায় বিজেপি। তার পরেই নির্বাচন কমিশনের এই রদবদলের বিজ্ঞপ্তিকে যথেষ্ট তারপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এর আগেও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার কে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় সৌমেন মিত্রকে। যদিও ভোট মিটলেই সৌমেন মিত্রকে ফের বদলি করে দেয় কমিশন। তবে গতকাল নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার সময় কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না করেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা বলেন, ‘বেশ কিছু কারণেই পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা এত বেশি করে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন হচ্ছে।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখেই আট দফায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনের যে ‘সন্ত্রাসের’ সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ, তা ঠেকাতেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন। অন্যদিকে আট দফা নির্বাচনকে ঘিরে কমিশনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এমতাবস্থায় একুশের নির্বাচনকে ঘিরে পারদ যে চড়ছে ক্রমশই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here