kolkata news

 

মহানগর ডেস্ক: শীতলকুচি ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বললেন, নির্বাচন কমিশন মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এখনও কেন সেন্সর করছে না? তাঁদের উসকানিমূলক বক্তব্যে লাগাম পরাতে কোনও চেষ্টাই করছে না কমিশন৷ একের পর এক জনসভায় উত্তেজক ভাষণ দিয়েই চলেছেন নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ থেকে মমতা ব্যানার্জি সবাই৷ তারই মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, নিরীহ ভোটদাতাদেরকে৷ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের আজকের বক্তব্য সম্পর্কে সেলিম বলেন, দিলীপ ঘোষ কীভাবে বলতে পারেন বাড়াবাড়ি করলে রাজ্যে আরও অনেক শীতলকুচি হবে৷ বোঝাই যাচ্ছে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ খুব আনন্দিত, উৎফুল্ল হয়েছেন৷ মমতা-দিলীপ জুটিই বাংলায় হিংসা-সন্ত্রাস এবং ধর্মীয় বিভাজন ও মেরুকরণের নোংরা রাজনীতি আমদানি করেছেন৷   

সেলিমের মতে, শীতলকুচির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিৎ৷ দুধ আর পানি পরিষ্কার হয়ে যাক৷ তাঁর কথায়, অপরাধ বিজ্ঞান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দুজনেই সমান অপরাধী৷ শীতলকুচিতে গুলি চালানোর পর নৈতিক দায় স্বীকার করে দুজনেরই পদত্যাগ করা উচিৎ ছিল৷ কারণ মূলত এই দুজনের উত্তেজক এবং উসকানিমূলক ভাষণের পরিণতি হল গতকালের শীতলকুচির মর্মবিদারী ঘটনা৷ সেলিম আরও বলেন, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ৪টে পর্ব হয়েছে৷ এখনও ৪টে পর্ব বাকি রয়েছে৷ গতকাল চতুর্থদফা ভোটে শীতলকুচিতে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা গণতন্ত্রকে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে৷ পরবর্তী দফাগুলোয় মানুষ ভোট দিতে বুথে যেতে অনিচ্ছা দেখাবেন৷ কারণ সবারই প্রাণের ভয় আছে৷ নির্বাচন কমিশন মানুষকে অবাধে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানায়৷ এটা সুনিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের কাজ৷ কিন্তু গত চার দফাতেই যেভাবে মমতা, মোদি, অমিত শাহ খুল্লমখুল্লা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তা সব জেনেশুনেও কমিশন নির্বীকার৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন৷ তাই অমিত শাহ এর দায় এড়াতে পারেন না৷

বিজেপির নির্বাচনী প্রচার সম্পর্কে সেলিম বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে লোকজন ভাড়া করে এনে, হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে লোক এনেও মাঠ ভরাতে পারছেন না৷ এই নির্বাচনে প্রত্যেক দফায় সংযুক্ত মোর্চা যেভাবে এগোচ্ছে, গ্রাম-শহরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোর্চার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন তাতেই ভয় পেয়েছে ঘাসফুল ও পদ্মফুল শিবির৷ তাই তারা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে৷ তারপরেও তাদেরকে পেশিশক্তির আস্ফালন করতে হচ্ছে৷ আর এর ফলেই দিকে দিকে উলুখাগড়ার প্রাণ যাচ্ছে অকাতরে৷ গণতন্ত্রকে তারা কালিমালিপ্ত করছেন৷ সেলিমের কথায়, চিল যেমন ছোঁ মারার আগে একটা রব তোলে, ঠিক তেমনই বাংলার আকাশে আজ চিল-শকুনদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে৷

কমিশনকে তোপ দেগে তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে শুধু একটা নোটিশ পাঠিয়ে, ব্যাখ্যা চেয়ে নির্বাচন কমিশন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না৷ এইসব উসকানিদাতা বক্তা ও নেতাকে ভোট প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে৷ কমিশনকে আরও কয়েকধাপ এগিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে৷ পাশাপাশি বিজেপি নেতাদের উসকানিতে যারা গুলি চালাচ্ছে, সেইসব অভিযুক্ত ব্যাটালিয়নকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে৷ বামেরা উপযুক্ত সাজা চাইছি, ক্ষতিপূরণ চাইছি৷ ধর্মের নামে উসকানি দিয়ে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির কাজ করছে বিজেপি-তৃণমূল দুই দলই৷ অথচ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযন্ত্রণা নিয়ে কেউ ভাবছে না৷ গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলের দাম কোথায় যাচ্ছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কোথায় যাচ্ছে সেসব নিয়ে ওদের মাথাব্যথা নেই৷ মানুষকে ধর্মের রঙিন চশমা পরিয়ে রাখতেই ধর্মের জিগির তোলা হচ্ছে৷ বাংলাকে সর্বনাশের পথে নিয়ে যাবার জন্য

সেলিমের অসিভিল ওয়ারের দিকে রাজ্যকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা-অমিতরা৷ রাজনীতিকে এরা সৃজনশীল রাখতে চায় না, এরা রাজনীতিকে প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলছেন৷ তাই এবার বাম সমর্থিত সংযুক্ত মোর্চাকে ভোটে জিতিয়ে সরকার গড়তে সাহায্য করতে রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানিয়ে সেলিম বলেন, একমাত্র তাদের নেতৃত্বেই রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরতে পারে৷ 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here