নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: হাতির হামলা এবার রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলা বীরভূমে। এর আগে যে বীরভূমে কোনদিন হাতি ঢোকেনি তা নয়, কিন্তু দল বেঁধে ঢুকে পড়ার ঘটনা সাম্প্রতিক কালে হয়নি। তাই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন, করিডর কি বদলে ফেলছে হাতির পাল? জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার মুহাম্মদবাজার ব্লকের কাপিষ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিন্দারপুর ও নবগ্রাম এলাকায় ২২টি হাতির একটি পাল ঢুকে পড়ে। হাতির ওই দলে বুড়ো থেকে বাচ্চা মিলে রয়েছে ২২টি হাতি।

এলাকাবাসীদের কথা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত্রি বেলায় এই হাতির দলটি জিন্দারপুর এবং নবগ্রামের মাঠে ঢুকে পড়েছে। শুক্রবার ভোর রাতে এলাকাবাসীদের চোখে পড়ে এই হাতির দলটি। গ্রামের সকলে হঠাৎ করে এমন হাতির দল দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গ্রামবাসীদের আতঙ্কের সব থেকে বড় কারণ হল মাঠের ফসল। হাতিগুলি বর্তমানে ওই এলাকার সবজি চাষের মাঠগুলিতে অবস্থান করছে। এই সকল মাঠে রয়েছে আলু, আখ এবং অন্যান্য শাক সবজি। তাই হাতির হানায় ফসল নষ্টের পাশাপাশি গ্রামবাসীরা গ্রামের অন্দরেও হাতির হানার ভয়ে কার্যত আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন। যদিও খবর পেয়ে শুক্রবার বেলার দিকে ঘটনাস্থলে যায় মুহাম্মদবাজার, সিউড়ি এবং ঝাড়খণ্ডের বনদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মী। গ্রামবাসী এবং বনদপ্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাতগুলিকে তাদের সঠিক ঠিকানা দেখানোর জন্য। এখন পর্যন্ত মাঠের ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোন ধারণা চাষিদের কাছে আসেনি।

এদিনই আবার জেলার সিউড়ি থানার খটঙ্গা গ্রাম থেকে ৩টি পূর্ণবয়স্ক অজগর সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। জানা গেছে,বৃহস্পতিবার বিকেলে খটঙ্গা গ্রামের একজন মহিলা মাঠে গরু চড়াতে গিয়ে দেখেন একটি বিশালাকার অজগর সাপ। ওই মহিলা সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়। পরে খবর দেওয়া হয় ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল বিউরোর সদস্য দীনবন্ধু বিশ্বাসকে। তিনি এসে সাপটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন সেখানে আরও দুটি সাপ রয়েছে। তিনি সাপগুলিকে উদ্ধার করে শুক্রবার বনদপ্তরের হাতে তুলে দেন। দীনবন্ধু বাবু জানান,’আমি খটঙ্গা গ্রাম থেকে ৩টি অজগর উদ্ধার করে বনদপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছি। তিনটি সাপই পূর্ণবয়স্ক। সাপগুলির মধ্যে ১টি প্রায় ৯ফুট আর বাকি দুটি প্রায় ৭ফুট লম্বা। এদের উপযুক্ত বাসস্থান দেখে পুনর্বাসন দেওয়া হবে।’ প্রসঙ্গত, গত ১বছরে বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৬টি পাইথন উদ্ধার হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রেই বীরভূম-ঝাড়খন্ড সীমান্ত এলাকা থেকে এই অজগর সাপগুলি উদ্ধার হয়েছে। বনদপ্তরের অনুমান এই সমস্ত সাপগুলি মূলত ঝাড়খন্ড থেকে এই এলাকাগুলিতে ঢুকে পড়ছে। কিন্তু বারবার এইভাবে অজগর সাপ চলে আসায় আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here