kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: লকডাউনের মাঝেই পশ্চিম মেদিনীপুরে হাতির আতঙ্ক৷ গভীর রাতে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার জঙ্গল থেকে তিরিশটির বেশি হাতি মেদিনীপুর সদর ব্লকের মণিদহ এলাকায় প্রবেশ করে৷ গ্রামবাসীরা জানতে পারলেই আতঙ্ক ছড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে৷ রাতেই উদ্যোগ নিয়ে গ্রামের লোকজন হাতিগুলিকে গ্রামের পাশ থেকে সরায়৷ তবে সকালে মাঠে গিয়ে দেখতে পান ক্ষতি হয়েছে পঞ্চাশ বিঘের বেশি ফসলের৷

জঙ্গলমহলের জেলাগুলির মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কয়েকদিন ধরে খুব একটা হাতির উৎপাত দেখা যাচ্ছিল না৷ ফলে লকডাউন পরিস্থিতিতে জীবন জীবিকা নিয়েই মানুষ ব্যস্ত ছিলেন৷ হাতির ক্ষেত্রে স্বস্তি ছিল এলাকাতে৷ এর মাঝেই সেই স্বস্তি আতঙ্কে পরিণত হয় হয় বৃহস্পতিবার রাতে৷ বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাশের ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়ার জঙ্গল থেকে দলমার প্রায় তিরিশটি হাতি প্রবেশ করে মেদিনীপুর সদর ব্লকের মণিদহ এলাকাতে৷ ধানের জমিতে নেমে পরপর ক্ষতি করতে শুরু করে৷ তার মধ্যেই কতগুলি হাতি প্রবেশ করে করে এনায়েতপুর ও মণিদহ গ্রামের পাশে৷ হাতির উপস্থিতি বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা৷ বনদফতরের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই নেমে পড়েন হাতি তাড়াতে৷ অনেক রাত পর্যন্ত তাড়িয়ে গ্রাম থেকে দূরে হাতিগুলিকে সরাতে সক্ষম হন৷ তবে আতঙ্ক থেকে যায়৷ কারণ, এই মুহূর্তে হাতির আক্রমণে কিছু হয়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা করার পরিস্থিতিও প্রতিকূল৷

রাতে গ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে হাতির পাল সরে গেলেও পাশে মাঠে নেমে ব্যাপক ক্ষতি করে। ধান খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করেছ৷ এনায়েতপুর এলাকাতেই পঞ্চাশ বিঘার বেশি ফসল নষ্ট করেছে হাতির পালে৷ সকালে চাষের জমি দেখতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন চাষীরা৷ মণিদহ পাশের কিছু জমিতে সকালেও হাতিকে ধান খেতে দেখা গিয়েছে৷ পরে গ্রামবাসীদের তাড়ায় শুকনাখলির জঙ্গলে ঢুকে পড়ে হাতি৷ তবে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বনকর্তারা৷ ফলে রাতে পুনরায় হাতির পাল গ্রামে বা চাষের জমিতে প্রবেশ করতে পারে বলেই আশঙ্কা চাষীদের৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here