‘গ্রেটেস্ট এভার’ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বসেরা ইংল্যান্ড

0

নিউজিল্যান্ড- ২৪১/৮                                    ইংল্যান্ড- ২৪১

সুপার ওভার

ইংল্যান্ড- ১৫/০                                     নিউজিল্যান্ড- ১৫/১

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঠিক যেন প্রথম সেমিফাইনালের রিপ্লে। প্রথমে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করে ২৪০ রানের আশপাশে থেমে যাওয়া। দেখে মনে হবে, হাসতে হাসতেই রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেবে দ্বিতীয় দল। কিন্তু আদতে পিচ আর বোলাররা দাপুটে পারফরম্যান্স, দুয়ের সারাশি চাপে বিপক্ষকে পিষে ফেলা। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, আর ফাইনালে আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে ভারতের হয়ে লড়াই করেছিলেন ধোনি ও জাদেজা। আজ ইংল্যান্ডের হয়ে সেই ভূমিকায় বাটলার ও স্টোকস।

আজ যেন খেলাধুলার ভগবান দুহাত ভরে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের জন্য। একদিকে যখন নেইল বাইটিং থ্রিলার চলছিল উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে, ঠিক একই ভাবে লর্ডসের মাঠে অভাবনীয় ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল। দুটি খেলা যারা একটু করে হলেও দেখেছেন, তাদের হৃদপিন্ডের অবস্থা যে কী হয়েছিল, তা প্রতিবেদক ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন। সত্যিই দুটি ফাইনাল ই হল ফাইনালের মতো।

টসে জিতে ব্যাট করার ক্ষেত্রে কোনও দ্বিমত ছিল না বিশেষজ্ঞদের। উইলিয়ামসন ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মর্গানকেও বলতে শোনা যায়, তারাও ব্যাটই ধরতেন। ব্যাট করতে নেমে গাপ্টিল ও নিকোলস ধীরে গতিতে চলার চেষ্টা করলেও সপ্তম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন গাপ্টিল (১৯)। ফলে চলতি বিশ্বকাপে এককথায় তিনি ডাহা ফেল বলাই চলে। এরপর নিকোলস ও অধিনায়ক উইলিয়ামসন কিছুটা সামলে ওঠার চেষ্টা করেন। ওঠেনও। কিন্তু উইলিয়ামসন ব্যক্তিগত ৩০ রানে ফিরতেই ধাক্কা খায় কিউয়িরা। তারপর থেকে আর কোনও বড় পার্টনার্শিপ হয়নি নিউজিল্যান্ডের। নিকোলস অবশ্য একবার অর্ধ শতরানের মুখ দেখতে পান। তিনি করেন ৫৫ রান। এছাড়া লেথাম ৪৭ রান করে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যান দলকে। বলার মতো বড়ো রান আর কেউ করতে পারেননি।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ে যত প্রশংসা করা যাক কমই পড়বে। বিশেষ করে ক্রিস ওকস এবং লিয়াম প্লাঙ্কিটের। রান দেওয়ার ক্ষেত্রে ওকসই ছিলেন সবচেয়ে কৃপণ। ৯ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। প্লাঙ্কিটও ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে বিশ্বকাপের সেরা বোলার জোফরা আর্চারও ১ উইকেট নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। আরেকটি উইকেট নেন মার্ক উড। ২৪১ রানে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২৪২ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের ও। শেষ চারটে ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে শতরান করেছিলেন দুই ইংরেজ ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। কিন্তু এদিন যেন আটঘাট বেঁধেই খেলতে নেমেছেন ব্ল্যাক ক্যাপসরা। ট্রেন্ট বোল্ট আর ম্যাট হেনরি র সামনে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে পড়ে ইংলিশ ওপেনিং জুটি। ইনিংসের প্রথম বলেই কোনও রকমে বেঁচে যান রয়। কিন্তু ৫ ওভারের চতুর্থ বলে ম্যাট হেনরির বলে কট বিহাইন্ড হন জেসন রয়। ব্যাক্তিগত ১৭ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি।

এরপরেই যেন প্রথম রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের মতো ভয়ানক হয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। ক্রমে জনি বেয়ারস্টো ও তিন নম্বরে নামা জো রুটের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে কিউয়ি বোলাররা। এই চাপের কাছেই হার মানতে হয় রুটকে। ৩০ বলে ৭ রান করে ফিরে যান তিনি। ৫৯ রানে দুই উইকেট খুইয়ে আরও চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। আশা জাগিয়েও বড়ো রান করতে ব্যর্থ হন বেয়ারস্টো (৩৬)। তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফেরেন মর্গান ও (৯)। এরপরেই ইংল্যান্ডের হয়ে হাল ধরেন স্টোকস ও বাটলার। চাপের মুখেও কী অসাধারণ লড়াই চালিয়ে গেলেন দুজনে। তাদের শতরানের পার্টনারশিপ টাই সোনালী ট্রফি থেকে কিউয়িদের দূরে ঠেলে দেয়। হাফ সেঞ্চুরি করেন দুজনেই।

তবে শেষদিকে এসে বাটলার ( ৫৯) আউট হতেই ফের কিছুটা চাপে পড়ে যায় থ্রি লায়নেরা। যদিও লড়াই চালান বেন স্টোকস। কিন্তু উল্টোদিকে ধরে খেলার লোক ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান বেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। কিন্তু চূড়ান্ত নাটকীয় শেষ ওভারে চওড়া ভাগ্যের সৌজন্যে ম্যাচ ড্র করে ইংল্যান্ড। ফলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে, বিশ্বকাপের ফাইনালে যা প্রথম।

সুপার ওভারে প্রথমে ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যাট করতে নামেন স্টোকস ও বাটলার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল করেন বোল্ট। ওভারে ওঠে ১৫ রান। জবাবে কিউয়ীদের হয়ে ব্যাট করতে নামেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। প্রথম বলটাই হোয়াইড করেন আর্চার। এর দুই বল পরেই বিশাল ছক্কা হাঁকান নিশাম। শেষ দুই বলে বাকি ছিল ৩ রান। শেষ বলে দুই। শেষ বলে গাপটিল কে রান আউট করতেই কেল্লা ফতে। রানের বিচারে সমান করেও গোটা ম্যাচে কম বাউন্ডারি মারার অদ্ভুত নিয়মে বিশ্বসেরার খেটাবটাও হাতছাড়া হয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের। গ্রেটেস্ট ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে হারিয়ে বিশ্বসেরা ইংল্যান্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here