পরিবেশ বান্ধব উপকরণ ছাড়া সবই ব্রাত্য উলুবেড়িয়ার দুর্গাপুজোয়

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, উলুবেড়িয়া: মাটির সরায় রং, তুলি, কাগজ, খড় দিয়ে তার ওপর দেবী দুর্গার প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলছে বছর আঠাশের তরুণ মন্টু মণ্ডল। মন্টুকে ঘিরে বসে এই কাজে সহযোগিতা করছে মায়া চক্রবর্তী, পূর্ণিমা ঢালি, সাইদা খাতুন, ফারুক আলিরা। অতিথিদের কাছে পাঠানো হয়েছে আমন্ত্রণ পত্র। উলুবেড়িয়ার এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আশা ভবন’- এর আবাসিক মন্টু ,পূর্নিমাদের। ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের ঘরে বসে তারা পরিবেশ বান্ধব সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি করেছিল আমন্ত্রণ পত্র। উলুবেড়িয়ার এই দুর্গাপুজো এবারে সাত বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতি বছরের মত এবারেও আশা ভবনের ‘পারসনস উইথ ডিসাবেলিটি ফোরাম’- এর আবাসিকরা পুজোর বন্দোবস্ত করেছে। তার আগে সেন্টারের ভোকেশনাল ইউনিটে মাটির সরার ওপর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অসুরনাশিনী দেবীর ছবি। আর তা লাগানো হয়েছে মন্ডপের ভেতরে। ব্যবহার করা হয়েছে প্রাকৃতিক রঙ, কচুরি পানার ডাঁটি থেকে তৈরি কাগজ, খড় ও কাঠের টুকরো।

সরার ওপর দেবী দুর্গার আকৃতি ফুটিয়ে তোলা মন্টু বলেন, ‘আমরা বরাবরই পরিবেশ বান্ধব দ্রব্য দিয়ে মন্ডপ সাজাই। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুজোতে বহু বিখ্যাত মানুষ আসেন। তাঁদের আগে থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই পত্র আমরা নিজেরাই তৈরি করি। পত্র এমন ভাবে তৈরি করা হয় যা সবার নজর কাড়ে। এর আগে আমরা পঞ্চম বর্ষে অশ্বত্থ পাতা দিয়ে তৈরি করেছিলাম আমন্ত্রণ পত্র। পাতার ওপর ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দুর্গার মুখ। আগের বছর সেন্টারের ষষ্ঠ বর্ষে আমন্ত্রণ পত্র তৈরি করা হয়েছিল মাটির থালার ওপর। সেই থালার উপর ভেষজ রং ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দেবি দুর্গার গোটা পরিবার।’ মন্টু জানান, সেবার এই আমন্ত্রণ পত্র যারা পেয়েছিলেন তাঁরা প্রশংসা করেছিলেন। মন্টুর কথায় আমন্ত্রণ পত্রের মাধ্যমে একটা সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়, পরিবেশ সচেতনতার।

সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারে  ১৫০ টি আমন্ত্রণ পত্র তৈরি করা হয়েছিল। যে গুলি সবই মাটির সরার উপর। সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। বেশ কিছুদিন আগেই পুজোর প্রস্তুতি মিটিংয়ে বসেছিল আশা ভবনের পারসনস উইথ ডিসাবেলিটি ফোরামের সদস্যরা। সেখানেই ঠিক হয় এবারের পুজোর থিম। সাত সদস্যের এই ফোরামের সকলেই মহিলা । ফোরামের সম্পাদিকা পুতুল মাইতি বলেন, এবারে পুজোর থিম ‘চাইল্ড প্রটেকশন’। আশা ভবন সেন্টারের ডিরেক্টর জন মেরি বারুই বলেন, সংস্থার সকল আবাসিকরাই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। তারা নিজেরাই পুজোর উদ্যোগ নেন। প্রতিবছর থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় সচেতনতার বার্তা। মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হয় পরিবেশ সহায়ক বস্তু দিয়ে। তার জন্য ব্যবহার করা হয় তালপাতা, বাঁশ, কাঠ। বাঁশের তৈরি কুলোর ওপর ফুটিয়ে তোলা হয় বিভিন্ন ছবি। যাতে থাকে সচেতনতামূলক বার্তা। আরও বলা হয়, পরিবেশ বান্ধব সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি মণ্ডপের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, দুর্গাপুজো যেমন সর্বজনীন তেমনই পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর রাখার দায়িত্বটাও সর্বজনীন। এবারের পুজোর উদ্বোধন করেন জেলা শাসক মুক্তা আর্য। এড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ডঃ নির্মল মাজি, বিধায়ক পুলক রায়, বিধায়ক ইদ্রিস আলি প্রমুখ।

মহানগরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বিস্ফোরক নারদাকর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল: 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here