দিন ফুরালো চাঁদের, ফুরালো আশা, বিক্রম নিরুদ্দেশ জানালো নাসা

0
1385
kolkata bengali desk

মহানগর ওয়েবডেস্ক: এক বুক দুঃসাহস নিয়ে ইসরো পাড়ি দিয়েছিল চাঁদের উদ্দেশ্যে। ইতিহাস গড়তে চন্দ্রযানের পেটের ভেতর ছিল ইসরোর সন্তান বিক্রম। সব ঠিকঠাক থাকলেও বিদজ্জনক সেই ১৫ মিনিটই করল বিশ্বাস ঘাতকতা। তারপর চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়া ইসরোর সন্তান বিক্রমের সন্ধান পেতে হাতে ছিল ১২ দিন। বড়বড় অ্যান্টেনায় ইসরো থেকে শুরু করে নাসার তরফেও বার্তা পাঠানো হচ্ছিল ‘বিক্রম তুমি কোথাও?’ না! কোনও হদিশ মেলেনি। ১২ দিনের আশার ক্যালেন্ডারে পড়েছে একের পর এক দাগ। সবশেষে নাসার শেষ চেষ্টা ছিল বিক্রমের দুর্ঘটনাস্থলে নিজেদের অরবিটারের থেকে ছবি তুলে তার অবস্থান জানা। কিন্তু নাসাও জানিয়ে দিল কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বিক্রমের।

১৪ টি পার্থিব দিনের পর চাঁদে এখন ঘনিয়ে এসেছে গভীর রাত। ঠাণ্ডাও হাড় কাঁপানো, শূন্য থেকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে। নাসার তরফে জানা গিয়েছে, নাসার অরবিটার এলআরও মঙ্গলবার বিক্রমের খোঁজে দক্ষিণ মেরুর ওই অবস্থানে যখন পৌছেছিল তখন রাত প্রায় নামব নামব করছে। পৃথিবীর সুর্যালোকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যদি বলা যায় তখন গোধুলি চলছে চাঁদে। চাঁদের উপরের পিঠ তখন ধোঁয়ায় ভরা সেই ধোঁয়া ফুঁড়ে অত উপর থেকে নাসার শক্তিশালী এলআরও আর কোনও হদিশ পায়নি বিক্রমের। একইসঙ্গে পৃথিবীর মাটিতে তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীদের সব আশা নিয়েছে হতাশার রূপ। আর পাওয়া যাবে না বিক্রমকে। এত দিনের তিন তিন করে গড়ে তোলা স্বপ্ন সব শেষ।

হয়ত তখন নিঃসঙ্গ পাথুরে জমিতে নিজের যান্ত্রিক চোখে অন্য পৃথিবী দেখছে মৃত্যুপথযাত্রী বিক্রম। নিভতে বসা এক অচেনা সুর্যের আলো। হয়ত ভাবছে কোনও এক ভয়ঙ্কর অপরাধে পৃথিবীর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে তাঁকে অচেনা জগতে। যেখানে তার খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। কোনও বন্ধু নেই, শত্রুও নেই। সে যেন নিঃসঙ্গ এক অচিনপুরের একলা প্রাণ। তবে বিক্রম হয়ত কখনও জানতে পারবে না। মাঝের এতটা সময় তার খোঁজে কার্যত দিশাহারা হয়ে উঠেছে পৃথিবীতে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একের পর এক চোখ পাগলের মতো সন্ধান চালিয়ে গিয়েছে তার। নিখোঁজের পর আজ এখন থেকে তাঁকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হবে। আর কেউ তাঁকে হ্যালো বলে ডাকাডাকি করবে না। কেউ আর বসে থাকবে না বিক্রমের পাঠানো সিগন্যালের অপেক্ষায়। বুকের ভেতর চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here