ডেস্ক: আজকে বঙ্গে লাগামহীন সন্ত্রাসের মধ্যে এ যেন উলট পুরাণ! পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে জেলায় জেলায় মারামারি-হানাহানির-খুনোখুনির মধ্যেও কিছুটা আশার আলো! লুন্ঠিত গণতন্ত্রের বুকের মাঝেও কোথাও কোথাও দেখা গেল গণতন্ত্রের উৎসব৷ রক্তক্ষয়ী গণতন্ত্রে এ যেন বিরল এক দৃশ্য৷ যা দেখা গেল, জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারে৷

সোমবার পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে যখন কুরুক্ষেত্র্রের চেহারা নিয়েছে গ্রাম বাংলা, তখনই মালবাজার মহকুমার গাজল ডোবা আপনাকে স্বস্তির খবর দিতে পারে। লাগামহীন সন্ত্রাসের মাঝেও রাজনীতির রং ভুলে ভুরিভোজে মাতলেন তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম সমর্থকরা। যা গণতন্ত্রের পক্ষে অতি স্বাস্থ্যকর একটি বিষয়৷ মালবাজারে শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে দুপুরে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল৷ কিন্তু সেখানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ছাড়াও নিমন্ত্রিত ছিলেন বিরোধী বিজেপি ও সিপিএমের লোকজনও। মুখ ফিরিয়ে থাকা নয়, তৃণমূলের এই নিমন্ত্রণ রক্ষা করে সৌজন্য দেখালেন বিরোধী দলের সমর্থকরাও৷ দুপুরের মেনুতে ছিল খিচুরি এবং সব্জি। সবাই মিলে পাশাপাশি বসে কব্জি ডুবিয়ে একেবারে পেটপুরে খেলেন সকলে৷

গণতন্ত্রের এই অন্ধকারের মাঝেও এমন নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বললেন, ‘এখানে ভোট মানে একটা উৎসব৷ রং আলাদা হতে পারে, কিন্তু কোনও শত্রুতা নেই৷ ভোট আসবে, ভোট যাবে৷ তাই কোনও অশান্তি নয়, এখানে আমরা সকলেই মিলেমিশে থাকি৷ প্রতিটি দলের মধ্যে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট রয়েছে৷ তাই তৃণমূলের মতো বিজেপি এবং সিপিএমের ভোটাররাও আমাদের এই ভুরিভোজে খুব উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয়৷’ তৃণমূল নেতা আরও জানালেন, শুধু ভোটার কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাই নয়, এখানে পথ চলতি মানুষের জন্য এই একটা দিনে অবাধ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়৷

তাই এত হানানি আর মৃত্যু মিছিলের মধ্যেও আগামিদিনে বাংলার বুকে বাংলার সুস্থ্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে এই ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে৷ গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ চাইছেন, মালবাজার আজ যে পথ দেখাল, তা যেন আগামিদিনে বাংলার প্রতিটি ব্লকে-ব্লকে, বুথে-বুথে ছড়িয়ে যায়৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here