kolkata news

Highlights

  • ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে প্রতারণার ছক
  • ৬ ভুয়ো কর্তাকে আটক করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ
  • ধৃতদের মধ্যে তিনজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা

রাজেশ সাহা, কলকাতা: মধ্য কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে সকাল থেকেই আয়োজন চলছিল ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার। ইমেলের মাধ্যমে রেল দপ্তর থেকে পাওয়া ইন্টারভিউ লেটার হাতে নিয়ে যথাসময়ে হাজির হয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। নির্দেশিকা মতোই সঙ্গে ছিল যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র। ইমেলে পাওয়া চিঠির ওপরে জ্বলজ্বল করছে ভারতীয় রেলের লোগো। নীচে বড়সড় করে লেখা ইন্টারভিউয়ের স্থান খোদ – পূর্ব রেলের সদর দফতর। সঠিক সময়ে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে হাজির হয়ে যান উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। শুরু হয় ইন্টারভিউ গ্রহণ। একে একে আধিকারিকদের সামনে গিয়ে নিজেদের নথিপত্র জমা দিতে থাকেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়োগের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক আবেদনকারীদের পরিচয় পত্র খতিয়ে দেখে ফাইলে যেই সই করতে যাবেন, এমন সময়ে বিশাল বাহিনী নিয়ে হঠাৎ হাজির হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। রেলের ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘিরে শুরু জিজ্ঞাসাবাদ। এরপরেই ফাঁস হয়ে যায় বড়োসড়ো প্রতারণার ছক। প্রকাশ্যে চলে আসে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা আদায়ের নামে যাবতীয় নাটকের চিত্রনাট্য। গোটা ঘটনাটি ফিল্মি কায়দায় হলেও, সোমবার বাস্তবেই এমনটা ঘটেছে কলকাতায় পূর্ব রেলের সদর দপ্তর।

পুলিশ সূত্রে খবর, ইমেলের মাধ্যমে রেলের চাকরিতে নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ লেটার পেয়ে কলকাতায় হাজির হয়েছিলেন খড়গপুরের বিধানপল্লীর বাসিন্দা যোগেশ নামে এক যুবক। খড়গপুরের যোগেশের মতই চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ফাইলপত্র নিয়ে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী। প্রত্যেকেই ইমেল মারফত ইন্টারভিউ লেটার পেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সন্দেহ এড়াতে ইন্টারভিউ এর স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয় পূর্ব রেলের সদর কার্যালয়কেই। পূর্ব পরিকল্পনা মতোই ভেতরে আসল রেল আধিকারিকদের নজর এড়িয়ে শুরু ইন্টারভিউ। পুলিশ সূত্রে খবর, এমন সময়ে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে একজন যুবক রেল কার্যালয়ে ঢুকে এক আধিকারিককে দেখান ইমেলে পাওয়া ইন্টারভিউ লেটারটি। তার সঙ্গে কথা বলার পরেই সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তির। এরপরেই তিনি ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান কলকাতা পুলিশকে। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছায় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। রেল কর্তাদের পরিচয় দিয়ে ইন্টারভিউ নেওয়া ওই ব্যক্তিদের আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। এরপরেই লাগাতার জেরার মুখে ভেঙে পড়ে তারা। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে তিনজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। বাকিরা মুর্শিদাবাদ, তপসিয়া ও সন্তোষপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় বহু নথিপত্র, যা দেখে চোখ কপালে ওঠে খোদ শীর্ষ পুলিশ কর্তাদেরও। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই প্রতারকদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের নামে গ্রুপ ডি পদে চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার বা নিয়োগপত্র। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে রাজ্য সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নাম ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরির নিয়োগ পত্র। উদ্ধার হয় ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের স্ট্যাম্প সহ একাধিক ভুয়ো নথিপত্র। রেল দপ্তরের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের নাম করেও তারা বহু মানুষের সঙ্গে চাকরির নাম করে প্রতারণা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।

লালবাজার সূত্রের খবর, ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের চাকরির জন্য চার লক্ষ টাকা এবং কেন্দ্র সরকারের চাকরির জন্য মাথা পিছু ছয় লক্ষ টাকা করে নিত ওই প্রতারকরা। ধৃতেরা পুলিশি জেরায় আরও জানিয়েছে, ইন্টারভিউ এর সময় তিন লক্ষ টাকা নেওয়া হতো এবং কয়েক মাস পর হাতে নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় আরও তিন লক্ষ টাকা নেয়া হতো চাকরিপ্রার্থীদের থেকে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে নেমে তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, খুব কম করে হলেও এখনো পর্যন্ত অন্তত ৫০ থেকে ৭০ জনের সঙ্গে চাকরির নাম করে এমন প্রতারণা করেছে ধৃতেরা। ফলে এই দুর্নীতিতে মোট টাকার অঙ্কটা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃত ছয়জনকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তাদের জেরা করে এই প্রতারণা চক্রের শিকর অবধি পৌঁছাতে চায় কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে এই বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here