নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে বেড়িয়েছিলেন শালির বিয়ের জন্য কেনাকাটা করতে। অটোর লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য নিত্যযাত্রী ও অটো চালকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার বেলঘড়িয়া আড়িয়াদহের বাসিন্দা এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী রাজেশ হাজরা। অভিযোগ সেই বচসার জেরেই প্রকাশ্যে তাদের মারধর করার পাশাপাশি নগদ ৭০ হাজার টাকা লুঠ করে নেওয়া হয়। ছিনতাই হয় গলায় থাকা সোনার চেনও। সেই সঙ্গে রাজেশবাবুর স্ত্রীকেও প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি ও মারধর করে তার সোনার চেন ছিনতাই করে অভিযুক্তরা। গত বুধবার রাতের ওই ঘটনার পরেই ওই দম্পতি থানায় যান অভিযোগ করতে। কিন্তু পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করতে চায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দম্পতি ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানালেও এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

রাজেশবাবু জানিয়েছেন,’শালির বিয়ের কেনাকাটা করতে বেরিয়ে আমরা আক্রান্ত হই। বিটি রোডে বেলঘড়িয়া অটো স্ট্যান্ডে অটোর লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য যাত্রীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে ছিলাম আমরা। এরপর অন্য অটো চালকরা ওই সময় বচসা থামানোর পরিবর্তে আমাকে প্রকাশ্যেই মারধর শুরু করে। স্ত্রী সোহিনি আমাকে বাঁচাতে আসলে তাকে ওই অটো চালকরা শ্লীলতাহানি করে আর আমার ব্যাগে রাখা নগদ ৭০ হাজার টাকা, স্ত্রীর গলার সোনার চেন লুঠ করে। আমার সাড়ে চার বছরের মেয়েও ওই দুষ্কৃতিদের মারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। যে অটো চালকদের হাতে আমাদের এই নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই আমি।’ বুধবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও বেলঘড়িয়া থানার পুলিশ রাজেশবাবুর লিখিত অভিযোগ নেয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রাজেশবাবুর স্ত্রী সোহিনি হাজরা বেলঘরিয়ায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (জোন ২) দপ্তরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবী করেন। সোহিনি দেবীর অভিযোগ,’ওরা আমার মেয়েকেও মেরেছে। আমার জামার কলার ধরে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আমি এখন আতঙ্কিত। অথচ পুলিশ সময়মত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’ বেলঘড়িয়া থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here