মহানগর ওয়েবডেস্ক: গত সপ্তাহে রাজ্যসভায় পাস হওয়া ‘বিতর্কিত’ তিনটি কৃষি বিল ক্রমশই গলার কাঁটা হয়ে উঠছে বিজেপির জন্য। গতকাল এনডিএ জোট ত্যাগ করার পর এদিন বোমা ফাটিয়েছে শিরোমণি অকালি দল। দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল এদিন বলেছেন, এই বিল আইনে পরিণত হলে জাতীয় অর্থনীতির জন্য তা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। শুধু তাই নয়, এনডিএ-র সবচেয়ে পুরনো শরিকদল সকল বিরোধীদের কৃষকদের স্বার্থে এক ছাতার তলায় এসে এই বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে।

অনেকদিন ধরে জল্পনা চলার পর অবশেষে গত সরকারিভাবে এনডিএ জোট ছাড়ার কথা ঘোষণা করে শিরোমণি অকালি দল। নতুন বিলে কৃষকদের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের প্রতিশ্রুতি না থাকার কারণে, এবং জম্মু কাশ্মীরের সরকারি ভাষার তালিকা থেকে পঞ্জাবিকে অপসারণের বিরোধিতা করে জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত জানায় শিরোমণিরা। গত এক বছরের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয় বড় শরিকদল হাতছাড়া হল বিজেপির। এর আগে বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে তেলেগু দেশম পার্টি ও শিবসেনা বেরিয়ে এসেছিল।

‘কৃষকরা যদি অর্থনৈতিক সংকটে ভোগেন তবে গোটা দেশই ভুগবে। নতুন এই বিল কৃষকদের ভাগ্য অনিশ্চিত করে তুলছে। দেশের সামাজিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে এই প্রভাব কিন্তু ধ্বংসাত্মক হতে পারে। সেই কারণে দেশের স্বার্থে আমরা এই বিলের বিরুদ্ধে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এতদিনের বিরোধী কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির কাছে সুখবীর সিং বাদলের আবেদন, তারা যেন কৃষক এবং এই শ্রমিকদের জন্য এক হয়ে লড়ে।

শিরোমণি অকালি দলের প্রধান এই আহ্বান জানানোর পর শিবসেনা ও তৃণমূল এই প্রস্তাবের সমর্থন জানিয়েছে। তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা বাদল সাহেব ও অকালি দলের অবস্থানকে সমর্থন করছি। কৃষকদের অধিকারের জন্য লড়া তৃণমূলের ডিএনএ-তে রয়েছে। চাষিদের অধিকারের জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ২৬ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়েছিলেন।’ অন্যদিকে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, ‘কৃষকদের স্বার্থে অকালি দলের এনডিএ ভেঙে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here