পুকুরে পড়ে যাওয়া শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু খেতমজুরের!

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পুকুরে পড়ে যাওয়া একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক খেতমজুরের। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান ১ ব্লকের বাঘার পঞ্চায়েতের বড় কাশিয়ারা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম চণ্ডী টুডু (৪৯)। বাঘার ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সমরেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে চণ্ডী টুডু কাজ করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ওই গ্রামের তেঁতুলপাড়ার বাসিন্দা হিরা রায়ের শিশুপুত্রটি পুকুরে পড়ে যায়। চণ্ডী টুডু দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে নেমে ওই শিশুকে উদ্ধার করে পুকুর পাড়ে তুলে দেন। এরপরই চণ্ডী টুডু বিদ্যুতের পোলের সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি পাইপ যা পুকুরের জলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেই পাইপটি ধরে পাড়ে ওঠার চেষ্টা করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনিবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পুকুরপাড়ে উপস্থিত মহিলারা পাশেই থাকা ট্রান্সফরমারের জাম্পার নামিয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে চণ্ডী টুডুর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে গ্রামবাসীরা দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ পৌঁছয়। গ্রামবাসীরা মৃতদেহ আটকে রেখে পুলিশের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরী এলাকার চারটে ট্রান্সফরমারের জাম্পার (ফিউস) নামিয়ে সেগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে গোটা এলাকা বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ে।

বাঘার ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সমরেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, গতকাল ধানকাটার একটি মেশিন গ্রামের পুকুর পাড়ের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুতের তারে লেগে তার ছিঁড়ে যায়। বিদ্যুৎ দফতরকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ঠিক করে দিয়ে যান। কিন্তু তাঁদের কাজের গাফিলতি ছিল। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে এদিন জানিয়েছেন সমরেন্দ্রবাবু।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত মৃতদেহ নামিয়ে রেখেই বিক্ষোভে দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁরা এদিন দাবি জানান, যতক্ষণ না বিদ্যুত দফতরের আধিকারিকরা আসবেন, ততক্ষণ মৃতদেহ তাঁরা তুলতে দেবেন না। এই ঘটনায় দেওয়ানদিঘি থানার পাশাপাশি বর্ধমান সদর থানা থেকেও বিশাল পুলিশ বাহিনী আসে। মৃতদেহ তুলতে গেলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে রীতিমতো বচসা বাধে পুলিশের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here