ডেস্ক: লাল পতাকা ও চড়া রোদে পিচ ঢালা রাস্তায় খালি পায়ে কিছুদিন আগেই এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল দেখেছিল গোটা দেশ। বাণিজ্য নগরী বোধহয় সেই প্রথমবার আঁচ করেছিল কৃষকদের শক্তি। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার কৃষকদের সব দাবি মেনে নেবেন বলে কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু কথা রাখেনি সরকার। শিবরাজ সং চৌহানের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যও দেখেছে কৃষক হত্যার মতো নারকীয় ঘটনা।

ভারতে কৃষকদের যন্ত্রণার কাহিনী বেশ দীর্ঘ। দেনার দায়ে আত্মহত্যার তালিকাটাও কিছু কম নয়। আর তারসঙ্গে তাল মিলিয়ে চিরাচরিত সরকারি নীতি, ‘কিছু না বলিব কিছু না দেখিব।’ নিজেদের দুর্দশা লাঘবের জন্য এবার অভিনব সিদ্ধান্ত নিল কৃষক সংগঠনগুলি। ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বনধের ডাক দিল তাঁরা। এই ১০ দিন কৃষকদের উৎপন্ন ফসল, সবজি, চাল-ডাল, দুধ, মাংস কোনও কিছুই শহরে গিয়ে বিক্রি করবেন না কৃষকরা। দশদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে সরবরাহ। এই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কিষাণ মহাসঙ্ঘ। আর তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরও ৩০ টি কৃষক সংগঠন। এই প্রতিবাদের জেরে আগামী ১০দিন ব্যাপক খাদ্য সঙ্কট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গতবারের মতো এবারেও সরকারের কৃষকদের দাবি, মুকুব করতে হবে কৃষিঋণ। বাড়াতে হবে কৃষকদের নুণ্যতম সমর্থন মূল্য, স্বামীনাথন কমিশনের রিপোর্টকে লাগু করা, পাম্পের জন্য বিনামূল্যের বিদ্যুৎ পরিবহণ, বিকল্প জ্বালানি হিসাবে ইথানল ব্যবহার করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। ১০ দিনের এই অভিনব বনধ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here