নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: ঋণ নিয়ে করেছিলেন আলু চাষ। সোমবার মাঠে গিয়ে জলে ডুবে থাকা আলুর জমি দেখে মাথায় হাত পড়েছিল তার। বাড়িতে ফিরেই আত্মহত্যা করে বসলেন ওই কৃষক। ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর মহকুমার আনন্দপুর থানার কেশুরগেড়িয়া গ্রামের। মৃত কৃষকের নাম চিত্তরঞ্জন ডোগরা(৫৫)। সোমবার বিকালে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে, তবে কেন এই ঘটনা ঘটেছে তা ক্ষতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

চিত্তরঞ্জনবাবুর পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, চিত্তবাবু ঋন করে ৩ বিঘে জমিতে করেছিল আলু চাষ করেছিলেন। ব্যাঙ্ক ও বাইরের মহাজনের কাছ থেকে মোটা টাকা ঋনও নিয়েছিলেন তিনি। এবার আলুতে ফলন ভালো হলেও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মাঠে পচতে শুরু করেছিল সেই আলু। তাই কয়েক দিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে আলুর জমি দেখতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে মাটির বাড়ির দোতলাতে গলায় নিজের গামছা জড়িয়ে ফাঁস লাগিয়ে নেন। বিকেলের বাড়ির লোকজন খোঁজ করতে গিয়ে দেখতে পান ঝুলন্ত দেহ। মৃতের ভাইপো সঞ্জয় ডোগরা বলেন, ‘মোটা টাকা ঋন নিয়ে কাকা আলু চাষ করেছিলেন। সেই ঋন মেটাতে পারবেন না বুঝতে পেরেই মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরে এই কান্ড করেছেন।’ মঙ্গলবার তার দেহ ময়নাতদন্ত হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ঘটনার জেরে জেলার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি জানান, ‘বিষয়টি শুনেছি। আমরা দেখছি কি কারনে মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে। তবে সরকারের কাছে আলু সমস্যা নিয়ে জানানো হয়েছে। সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।’ এমনিতেই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই কেশপুর সংলগ্ন অঞ্চলে চাষীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবীতে। এমনকি কয়েকদিন আগেই রাস্তায় আলু ফেলে, বিষের বোতল হাতে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিল আলু চাষীরা। মঙ্গলবারও বিকেলে ক্ষতিপূরণের দাবিতে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা। ঘাটাল চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো তারা। খবর পেয়ে আসে পুলিশও। তাদের হস্তক্ষেপেই ওঠে অবরোধ। ক্ষতিগ্রস্ত চাষী বিদ্যুৎ মন্ডল, দুষ্টু পাঁজা সহ আরও অনেকে বলেন, ‘কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়ে গেছে আলু চাষে। জমিতে জল জমে পচে গেছে আলু। তাই কি করে ঋণ শোধ করব ভেবে পাচ্ছি না। অবিলম্বে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিতে আমাদের এই অবরোধ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here