amravati, andhra pradesh

Highlights

  • কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল অমরাবতী, বনধের চেহারা রাজধানীতে
  • তাঁবু খাটিয়ে রাস্তা অবরোধ কৃষকদের
  • পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে

মহানগর ওয়েবডেস্ক শনিবার কৃষক বিক্ষোভ দেখল অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী অমরাবতী। সম্পূর্ণ বনধের চেহারা অমরাবতীতে। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? রাজ্যের প্রশাসনিক রাজধানী বিশাখাপত্তনমে স্থানান্তর করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তার বিরুদ্ধেই সোচ্চার সেরাজ্যের কৃষক সম্প্রদায়। এছাড়াও মহিলা বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অতি সক্রিয়তার অভিযোগে সরব হয়েছে বিক্ষোভকারীরা। অমরাবতীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানও তাদের শাটার ডাউন করতে বাধ্য হয়েছে কৃষক বিক্ষোভের জেরে। তবে ভেলাগাপুডিতে রাজ্য সচিবালয় ছুটির দিন হওয়ায় বন্ধ রয়েছে।

২৯টি গ্রামের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কৃষকদের নিয়ে একটি জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বেই এদিন অমরাবতীতে রাস্তা আবরোধ, ধর্ণা প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। প্রতিবাদীরা ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশকে গ্রামগুলির বেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। শুক্রবার থেকেই অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। এলাকার বিভিন্ন রেস্তোঁরাগুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশকর্মীদের কাজ করতে বেজায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

মনদাদমএ গ্রামের পাশ থেকে পুলিশের গাড়িও যাতায়াত করতে দিচ্ছেন না বিক্ষোভকারী কৃষকরা। পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনিবাবে মহিলাদের ওপর লাঠিচার্জ ও ভুয়ো মামলায় গ্রেফতারির অভিযোগে সরব হয়েছে বিক্ষোভরত কৃষকরা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিচ্ছে যে গ্রামের ভেতরে ঢুকতে না পেরে পিছু হটতে হচ্ছে পুলিশকে।

জেলার ডিএসপি এম বীরা রেড্ডি কৃষকদের পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন, তখন বিক্ষোভকারীরা অনুনয়ের সঙ্গে তাঁকে ও পুলিশবাহিনীকে ফিরে যেতে বলেন। আন্দোলনকারীদের এই ব্যবহারে কার্যত বিস্মিতই হয়েছিলেন ডিএসপি। এরপর তিনিও বিক্ষোভকারীদের পা স্পর্শ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। যদিও গ্রামবাসী তাতে আমল করেননি।

জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির দাবি গ্রামবাসী পুলিশকে জানিয়েছিল যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং পুলিশ যাতে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা না করে। রাস্তা অবরোধের জন্য তাঁবু খাটিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা, তবে শনিবার একেবারেই অন্যরকমভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ সম্প্রতি একটি রিপোর্ট দেয় যে, রাজ্যের প্রশাসনিক রাজধানী অমরাবতী থেকে বিশাখাপত্তনমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ, কারণ অমরাবতী রাজধানী শহর হওয়ার পক্ষে উপযুক্ত নয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস চন্দ্রশেখর রাও জানান, এই রিপোর্টটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, পরিকল্পনা করা হচ্ছে রাজ্যের তিনটি রাজধানী করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে তাঁর সরকার। এরপরই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়তে থাকে অমরাবতীর বিভিন্ন অংশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here