নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁকুড়া: দোর গড়ায় এসে হাজির হয়েছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ। তার দরুণ আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্ভাবাস দিয়েছে শনিবারই। কিন্তু মল্লভূম বাঁকুড়ায় কিরকম বৃষ্টি হবে সে কথা হলফ করে কেউই বলতে পারছে না। তাই আমন ধান চাষের জন্য জলের যোগান নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন এই জেলার ধান চাষীরা। কিন্তু তাদের এই দুর্ভাবনা দূর করার আশ্বাস দিল ডিভিসি(দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) আর কেআরপি(কংসাবতী রিভার প্রজেক্ট)। ওই দুই প্রকল্প থেকেই চাষীরা এবার ধান চাষের জন্য জল পাবেন বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, স্বাভাবিক বর্ষার তুলনায় এবছর এখনও পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কম। যেখানে প্রত্যেক বছর জুলাই মাসে গড়ে ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় এই জেলায়, সেখানে এবছর বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১৩৫ মিলিমিটার। বৃষ্টির ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২০০মিলিমিটার। এমতাবস্থায় জল না পেলে ধান গাছের চারাই লাগানো যাবে না বলে চাষীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। সেই সমস্যা কানে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন তড়িঘড়ি করে বৈঠক করে ডিভিসি আর কেয়ারপি’র সঙ্গে। তারপরেই জানানো হয় আগামী ২৩ ই জুলাই থেকে অগাস্ট মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত ১০ দিন ধরে জল ছাড়া হবে কংসাবতী নদীর মুকুটমণিপুর এবং দামোদর নদের দুর্গাপুর জলাধার থেকে। বাঁকুড়ার উত্তর ভাগের চারটি ব্লক বড়জোড়া, সোনামুখী, ইন্দাস ও পাত্রসায়রে জল দেবে ডিভিসি। মূলৎ সেচ খালের মাধ্যমেই আসবে সেই জল। খাতড়া মহকুমার খাতড়া, রানীবাঁধ, হীড়বাঁধ, তালড়াংরা, শিমলাপাল, রায়পুর ও সারেঙ্গা এই ৭টি ব্লক এবং বিষ্ণুপুর মহকুমার বিষ্ণুপুর, জয়পুর ও কোতুলপুর ব্লকে জল দেবে কেআরপি।

জেলা কৃষি দপ্তরের বক্তব্য, দুই জলাধার থেকে ১০দিন ধরে যে জল ছাড়া হবে তাতে বাঁকুড়া জেলার এক লক্ষ হেক্টর জমিতে বীচতলা এবং চারা গাছ রোপন করা যাবে। তাই জলের অভাবে জেলার যেসব চাষীরা চাষ আবাদ শুরু করতে পারছিলেন না বা চিন্তায় পড়েছিলেন তারা এবার চাষ করতে পারবেন বলে মনে করছে জেলা কৃষি দপ্তর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here