নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: এমনিতেই আলুর বাজার নিম্নমুখী। রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও বেশ কিছু জায়গায় মাঠ থেকে আলু তোলা শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলার মোট আলুর প্রায় ১০ শতাংশ ইতিমধ্যে তোলাও হয়ে গিয়েছে। অবশিষ্ট আলু পরিণতি পাওয়ার আগেই তা পড়েছে অকাল বৃষ্টির মুখে। ফলে আলুতে পচা দাগ লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি দপ্তরের বক্তব্য, বর্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে রক্ষে, না হলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে সকলকে।

এবছর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকার কারণে যা গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। সুন্দর ঝকঝকে আবহাওয়া থাকার কারণে এবার আলুতে ফলন খুব ভালো হয়েছে। জেলার বেশ কিছু স্থানে ইতিমধ্যেই সেই আলু তুলেও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে সেই আলুর দাম একেবারে নিম্নমুখী। তবে বেশিরভাগ আলু আগামী সপ্তাহের পর তোলা হবে জমি থেকে। পরিণত আলু তোলার অপেক্ষায় মাঠে রেখে এখন এক নতুন বিপদে পড়ে গিয়েছে কৃষকেরা। কারণ সোমবার ভোর থেকেই অকাল বর্ষণের জেরে আলুর জমিতে জল জমে গিয়েছে বেশির ভাগ জায়গাতেই। কৃষি দপ্তরের হিসেবে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমায় মঙ্গলবার পর্যন্ত গড় বৃষ্টির পরিমাণ ৩৩ মিলিমিটার। মেদিনীপুর সদর মহকুমায় গড় বৃষ্টি ৩০ মিলিমিটার। খড়গপুর মহকুমায় সেভাবে আলু চাষ হয়নি, তাই সেখানে ক্ষয়ক্ষতির বহর কম।

বসন্তের বুকে এই অকাল বৃষ্টিতে বেশিরভাগ আলুর জমিতে জল জমে থাকার কারণে আলুতে পচা দাগ লেগে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। ফলে এই অবস্থায় মাঠের জল যে কোন ভাবে বের করার চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। এ বিষয়ে জেলা কৃষি দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দুলাল দাস অধিকারী জানালেন, ‘এখনও পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে চিন্তা রীতিমত বেড়ে গিয়েছে। আলু ওঠার মুখে যদি ধারাবাহিক বৃষ্টি হতে থাকে তাহলে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা অবশ্যই থাকে। অনেকে যারা ইতিমধ্যে জমিতে সেচ দিয়েছিলেন তাদের কাছে এমনিতেই খানিকটা বিপদ রয়েছে। তারপরের এই বৃষ্টি আলুতে পচন ধরিয়ে দেবে।’ এমনিতেই আলুর দাম কম তার ওপর তা যদি এই বৃষ্টির জমা জলে পচে যায় তাহলে চাষীদের ক্ষতি নিশ্চিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here