নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: কুসংস্কারাচ্ছন্ন নিদানে আঙুল কাটা গেল এক প্রৌঢের। মড়লের নিদানে বাবার হাতের দশটি আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের পাড়ুই থানার রাধাকেষ্টপুর গ্রামে।

বীরভূমের পাড়ুই থানার রাধাকেষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা ফন্দি সর্দার। গত মঙ্গলবার রাত্রে তার ছেলে হরিশচন্দ্র সর্দার গ্রামের মোড়লের নিদান মেনে বাবার হাতে দশটি আঙুল কেটে নেয় বলে অভিযোগ। এরপরই এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাড়ুই থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। আটক করা হয় হরিশচন্দ্র সর্দারকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন আগে গ্রামে একদল সাধু এসেছিলেন। তারা ফন্দি সর্দারের বাড়িতে অপদেবতা আছে এমনটা দাবি করেন। এরপর থেকে গ্রামের বেশ কয়েকজন লোক বিভিন্ন অসুখে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর সেই দায় বর্তায় ফন্দি সর্দারের  ওপর, তাকে ডাইনি অপবাদ দেওয়া হয়।

ফন্দি সর্দার প্রত্যেকদিন তার বাড়ির কালী মন্দিরে কালী পুজো করতেন, সেই পুজো করার জন্যই গ্রামের লোকেদের অসুখ হচ্ছে তাই তাকে পুজো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, এমনকি পুজো বন্ধ না করলে তার দশটি আঙুল কেটে নেবার নিদান দেয় গ্রামের মোড়ল অনিল সর্দার। এরপর থেকে ফন্দি সর্দার ও তার পরিবারের লোকের ওপর অত্যাচার শুরু করে গ্রামবাসীরা।

গতকাল রাত আটটা নাগাদ বাড়ির কালী মন্দিরে বসে ছিলেন ফন্দি সর্দার ও তার ছেলে হরিশচন্দ্র সর্দার। এমন সময় হরিশচন্দ্র ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাবার দুই হাতে আঘাত করে এবং দশটি আঙুল কেটে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় ফন্দি সর্দারকে উদ্ধার করে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পাড়ুই থানার পুলিশ। আটক করা হয় হরিশচন্দ্রকে। এ বিষয়ে ফন্দি সর্দারের স্ত্রী সুশীলা সর্দার বলেন,”কয়েকদিন আগে গ্রামের মোড়ল অনিল সর্দার তার হাতের দশটি আঙুল কেটে নেবার নিদান দেয়, এরপর থেকেই আমাদের ওপর গ্রামবাসীরা প্রচন্ড অত্যাচার করত। গতকাল রাত্রে হরিশ তার বাবার হাতের দশটি আঙুল কেটে নিয়ে পুকুরের জলে ফেলে দেয়।” যদিও অনিল সর্দার নিজের দোষ স্বীকার করতে চান নি। তিনি জানান, “”গ্রামবাসীরা সকলে মিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়। আমি গ্রামবাসীদের বলেছিলাম বসে মীমাংসা করে নিতে, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি।”””

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here