kolkata nbengali news

মহানগক ওয়েবডেস্ক:১৯৩৫ সালের জমির দলিল আছে৷ ১৯৫১ সালের নাগরিকপঞ্জিতে আছে ফতিমাদের বাবার নাম৷ এবার লোকসভায় তারা ভোট দিয়েছে৷ তারপরেও তারা নাকি বংলাদেশি! সদ্য প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জি থেকে তাই তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে৷ সদ্য প্রকাশিত এই নাগরিকদের তালিকায় নতুন করে ১ লক্ষর বেশি লোকের নাম বাদ গিয়েছে৷ এদের মধ্যে সিংহভাগই বাঙালি৷ তার সঙ্গে আছে কিছু গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষ৷ এরা অধিকাংশই প্রাক্তন ভারতীয় সেনা৷ ফাতিমা ও তার দাদা নুরুলের বাড়ি অসমের নগাঁও জেলরা জুরিয়া থানা এলাকায় দিঘলিয়াতি গ্রামে৷ তারা আজ একশ বছর ধরে এখানে বংশপরম্পরায় বসবাস করে৷ তার যাবতীয় প্রামাণ্য নথিও আছে৷ তা তার দাখিলও করেছে৷ তবু তাদের বাংলাদেশের তকমা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে স্থানীয় প্রশাসন বলে অভিযোগ করেছেন অসমের সাংবাদিক আফ্রিদা হোসেন৷ তাঁর কথায়,ফাতিমা ও নুরুলের বিরুদ্ধে নওগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ১৫ জুন থেকে মামলা শুরু হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর ভারতে এসেছে৷ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এমন অগনিত বাঙালি এনআরসির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আফ্রিদা৷

 

সারা অসম সংখ্যালঘু ছাত্রসংগঠন আমসু-র নেতা রেজাউল করিমের সাফ অভিযোগ,ধর্মীয় ওভাষিক সংখ্যালঘুদের হয়রানি করার জন্য রাজ্যে একটি বিশেষ মহল অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে৷ তাদের সঙ্গে আছেন অসমের বুদ্ধিজীবি মহলের  অধিকাংশ৷ নাগরিকত্বর হাজারও প্রমাণ দিলেও তা মানতে চাইছে না উগ্র অহমিয়ারা৷ এই হয়রানি থেকে বাদ পড়ছেন না প্রাক্তন সেনারাও৷ আমসুর আরও অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে  অসম সহ উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বাঙালিদের বিতাড়িত করতে চাইছে অহমিয়াসহ খিলঞ্জিয়া গোষ্ঠীগুলি৷ উল্লেখ্য আমসু ও জমিয়ত ২০১৩ সালে নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতা করে সুপ্রিমকোর্টে মামলা করেছে৷

 

অহমিয়া ভাষায় খিলঞ্জিয়া অর্থ ভূমিপুত্র৷ অহমিয়া , গারো, খাসিয়া সহ উত্তর-পূর্বের আদিবাসীদের দাবি বাঙালিরা এই অঞ্চলে বহিরাগত৷ আশির দশকে প্রফুল্ল মহন্তের নেতযত্বে অসমে বাঙালি খেদাও এর নামে ভয়ংকর দাঙ্গা হয়েছিল৷ জন্ম নিয়েছিল অসম গণতান্ত্রিক পরিষদ(অগপ) এর মতো উগ্র আঞ্চলিক দল৷ এখন প্রায় চল্লিশ বছর পরে তারই বাঙালি তাড়াতে অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে সেখানকার বাঙালি সংগঠনগুলি অভিযোগ করছে৷ তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, অসমে বিজেপি সরকার এই বিষয়ে একেবারেই ঊদাসীন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here