kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেক্স: আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কোভিড–১৯ রোগীদের ওপর হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন ট্যাবলেট প্রয়োগের বিষয়ে সতর্কতা জারি করল। কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সক্লোরোকুইনকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ”গেম চেঞ্জার” অর্থাৎ তুরুপের তাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। ওষুধটি পাওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ”বন্ধু” নরেন্দ্র মোদীকে তিনি হুমকি দিতেও ছাড়েননি। এফডিএ–র সতর্কবার্তা শোনার পরও অবশ্য ট্রাম্প আমেরিকার সর্বোচ্চ খাদ্য ও ওষুধ নিয়ামক সংস্থাকে হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন–এর বিষয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছেন।

কোভিড–১৯ ভাইরাস সংক্রমণে হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম, এই মত কোনও প্রথাগত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং সেটি ছিল অনেকটাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নির্ভর। কোনও কোনও ক্ষেত্রে কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগীর ওপর হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন প্রয়োগ করে কিছু উন্নতি দেখা গেছে এমন অভিজ্ঞতাভিত্তিক কিছু ফলাফলের কথা জানা গিয়েছিল। ফ্রান্সের মার্সেলি শহরে চিকিৎসক–গবেষকদের একটি দল ৮০ জন কোভিড–১৯ ভাইরাসে প্রাথমিক স্তরে আক্রান্ত রোগীর ওপর হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন (অ্যান্টিবায়োটিক) একসঙ্গে প্রয়োগ করেছিলেন। ৮ দিন পর ৯০ শতাংশ রোগীর শরীরে ভাইরাসের তেমন কোনও অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদিও এই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে অধিকাংশ চিকিৎসকই এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট সন্দিহান। তাঁদের যুক্তি, ফলাফলটিকে গ্রাহ্য করার ক্ষেত্রে গোটা গবেষণাটিই অত্যন্ত দুর্বল ভাবে পরিকল্পিত।

হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন–এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করার পরদিনই আমেরিকার এফডিএ মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের ওপর প্রয়োগ বিষয়ে সাবধান করে দেয়। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতেই একমাত্র অ্যাজিথ্রোমাইসিন–এর সঙ্গে হাইড্রোক্সক্লোরোকুইনের ব্যবহার করার অনুমতি চিকিৎসকদের দিয়েছে এফডিএ। এফডিএ–এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাইড্রোক্সক্লোরোকুইনের সঙ্গে অন্য কোনও ওষুধ যেমন এক্ষেত্রে অ্যজিথ্রোমাইসিন প্রয়োগ করলে রোগীর হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ফলে যাদের কিডনি বা হার্টের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি খুবই বিপজ্জনক হয়ে যেতে পারে।

হাইড্রোক্সক্লোরোকুইন সম্পর্কে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত মনোভাব প্রকাশ পাবার পর চিকিৎসকরা নিজেদের ও তাদের পরিবারের জন্য এমন ভাবে ওষুধটি ব্যবহার করতে থাকেন যে আমেরিকার বাজারে হাড্রোক্সিক্লোরোকুইনের অভাব তৈরি হয়ে যায় বলে জানান সে দেশের ওষুধের বাজার সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা। রোগীরাও বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন তাদের চিকিৎসায় হাড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করার জন্য। সেই সময় এই ওষুধ সম্পর্কে যারা আগাম সতর্কতা জারি করেছিলেন তাদের অনেককেই প্রেসিডেন্টের বিরাগভাজন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here