kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: নীতি আয়োগের রিপোর্টে মিলেছে অশনি সংকেত। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জল সংকটের মোকাবিলায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। এমত অবস্থায় জলের অপচয় ঠেকাতে ‘জল ধরো জল ভরো’ নীতিকে কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে কলকাতা পুর নিগম। জলাশয় সংস্কার ও জলাভূমি রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় নতুন করে একটা জলাভূমি ভরাট হলে, তার দায় নিয়ে আমি মেয়র পদ থেকে সরে যাব বলে বিধানসভায় ঘোষণা করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

পুরনিগম সূত্রে খবর, জল নিয়ে একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্ল্যান অফ অ্যাকশন তৈরি করা হচ্ছে। যাতে মূলত তিনটি বিষয় দেখা হবে। প্রথমত বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া, জলাভূমি সংরক্ষণ ও জলের অপচয় রোধ করার জন্য নগারিকদের সচেতন করে তোলার কর্মসূচি নেওয়া হবে। অযথা লাইট, ফ্যান চালিয়ে রাখলে বিদ্যুতের বিল বাড়ে। কিন্তু, কল খুললেই মেলে দেদার জল। রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী, এরাজ্যের নাগরিকদের জলের জন্য কোন মাশুল দিতে হয় না। সে কারণে নাগরিকদের একাংশের মধ্যে দেদার জল অপচয়ের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে পুর কর্তাদের অভিমত। এই প্রবণতায় অবিলম্বে দাঁড়ি না টানলে কলকাতাও আগামী দিনে চেন্নাই হয়ে যেতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। খাওয়ার জলের জন্যেও নাকের জলে চোখের জলে হতে পারেন আম কলকাতা বাসী।

নীতি আয়োগের রিপোর্ট বলছে, আগামী ১৫ মাসের মধ্যে দেশের ২১টি শহরে প্রবল জলসংকটে পড়তে চলেছেন ১২ কোটির বেশি মানুষ। আর ২০৩০-এ এই দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ খাওয়ার জলটুকুও পাবেন না। শুধু এই গ্রীষ্ম নয়, জলের অপচয় বন্ধ না করলে অদূর ভবিষ্যতে প্রবল খরার মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে সাবধানতা জারি করেছে মহারাষ্ট্রের জল সরবরাহ দফতর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি হবে জলের কারণেই। যে ভাবে গোটা বিশ্বে পানীয় জলের জন্য হাহাকার বাড়ছে, তাতে বিশেষজ্ঞদের এই আশঙ্কা যে একেবারেই অমূলক নয়, তা স্পষ্ট। কলকাতা শহরের জনসংখ্যা এখন প্রায় ৪৫ লক্ষ। এছাড়া প্রতিদিন ১৫ লক্ষ লোক বাইরে থেকে কলকাতায় যাওয়া আসা করেন। সেই হিসেবে প্রায় ৬০ লক্ষ লোক শহরের পানীয় জল পান করেন। জাতীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে জনপ্রতি ১৩৫ লিটার জল লাগে। প্রায় আড়াই লক্ষ বাড়িতে জলের সংযোগ দিয়েছে পুর নিগম। কিন্তু দেখা গিয়েছে, অনেক বাড়িতেই জনপ্রতি ২০০ লিটারেরও বেশি জল ব্যবহার করা হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলেই মনে করছেন কলকাতা পুর নিগমর ইঞ্জিনিয়ারেরা।

বাড়তি জলের ব্যবহার অপচয়েরই সামিল বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের ধারণা, ওই ধরনের অপচয় বন্ধ করতে পারলে আরও ৫ কোটি ৬০ লক্ষ লিটার জল বাঁচানো সম্ভব হবে। কলকাতা পুর নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, দৈনিক ১৫৪ কোটি ৮১ লক্ষ লিটার জল তৈরি হয় কলকাতায়। লিকেজ, কল খোলা থাকা ইত্যাদি কারণে অপচয় হয় ৩৬ কোটি ৬৪ লক্ষ লিটার। যা তৈরি হওয়া মোট পানীয় জলের প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ। পুর নিগমর জল সরবরাহ দফতরেরই দেওয়া হিসেব অনুসারে যে পরিমাণ জল প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে, তা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, মাসে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার জল অপচয় হচ্ছে। এভাবেই তা চলছে বছরের পর বছর ।পুর নিগমর প্রশাসনিক কর্তাদের অনেকেই মনে করেন, এর মূল কারণ নজরদারির অভাব। শহরে প্রায় ২০ হাজারের মতো স্ট্যান্ড কল রয়েছে। ওই ধরনের অনেক কলেই অযথা জল পড়ে যায়। পুর নিগম থেকে প্রতিদিন গাড়ি করে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়।

ওয়েলিংটন স্কোয়ারে মাটির নীচে পুর নিগমর যে জলাধার রয়েছে, সেখান থেকে পাম্পের সাহায্যে জল তুলে গাড়িতে ভরা হয়। এমনও দেখা গেছে, নীচে জলের গাড়ি নেই, অথচ বড় কল থেকে ক্রমাগত জল মাটিতে পড়ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি থেকে জল উপচে ভেসে যাচ্ছে চাপরাশ। এ ছাড়া পাইপ ফেটে জল পড়ে যাওয়ার ঘটনার তো অন্ত নেই। তা চলেছেই অধিকাংশ এলাকায়। পুর নিগমর অন্দরেই অভিযোগ, টানা তিন চার দিন পাইপ লিকেজ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নজরে আসছে না। ফলে অপচয় বেড়েই চলেছে। বর্তমানে কলকাতা শহরে যে জল সরবরাহ হয়, তা মূলত পলতা, উত্তর কলকাতায় গঙ্গাপাড়ে মায়ের ঘাট, দক্ষিণে গার্ডেনরিচে গঙ্গা থেকে নিয়ে পরিস্রুত করা হয়। বর্তমানে কলকাতা পুর নিগম উচ্চচাপে ভোর ৫ টা ‌৩০ থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জল সরবরাহ করে। তারপর দুপুরে বিকেল ৩ টে ৩০ থেকে ৫টা পর্যন্ত নিম্নচাপে। বিকেল ৫ টা ‌৩০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মধ্যচাপে জল সরবরাহ করে কলকাতা পুরনিগম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here