ডেস্ক: পঞ্চায়েতের পুনরাবৃত্তি যাতে লোকসভায় না ঘটে সেই দাবিতে রাজ্যের সমস্ত বুথকে স্পর্শকাতর ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপির গলায় গলা মিলিয়েছে কংগ্রেস সিপিএমের মতো বিরোধীরাও। তবে বিরোধীদের সমস্ত দাবিকে ফুঁৎকারে উড়িয়ে বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুললেন কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর অভিযোগ, ‘যেহেতু রাজ্যে বিজেপির পায়ের নিচে মাটি নেই সেই কারণেই এই সমস্ত কাণ্ড করছে ওরা।’

বুধবার সাংবাদিকদের সম্মুখীন হয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘এই বিজেপি বাংলার মানুষকে অপমান করছে। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়। শান্তির বাতাবরণ এখানে রয়েছে।’ তবে বিজেপির দাবি, ‘বাংলার আইনশৃঙ্খলা ভালো নয়। পঞ্চায়েত ভোটে এখানে ১০০-এর বেসি মানুষ মারা গিয়েছিল রাজনৈতিক হিংসায়। রাজ্যের পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করে।’ যদিও বিরোধীদের এহেন অভিযোগ মানতে বিন্দুমাত্র রাজি নন ফিরহাদ। তাঁর স্পষ্ট যুক্তি, ওদের পায়ের নিচে মাটি নেই। তাই কমিশনের কাছে গিয়ে স্পর্শকাতর সুর তোলা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপি নিজেই স্পর্শকাতর হয়ে গিয়েছে। ওদের দেখলে মানুষ ভয় পাচ্ছে। বাংলাকে অপমান করার সাহস ওদের কে দিল? আমরা এখানে ভালো আছি। নির্বাচন কমিশন যদি বিজেপির কথায় প্রভাবিত হয় তাহলে বুঝতে কমিশনও নিরপেক্ষ নয়।

একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে করে মমতা বলে, ‘শুরু থেকেই বাংলাকে অপমান করে চলেছে বিজেপি। সিআরপিএফ আনা হচ্ছে দেশকে বাঁচাতে নয়, বরং নেতাদের আড়াল করতে। বাংলাকে স্পর্শকাতর বলার কোনও অধিকার নেই বিজেপির। এখানে কোনও অশান্তি নেই।’ উল্লেখ্য, দেশের মধ্যে বাংলাকে অতি স্পর্শকাতর রাজ্য ঘোষণার দাবিতে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব। এই বিষয়ে কমিশনে লিখিত আবেদনও জানিয়েছে বিজেপি। গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে যারপরনাই বিব্রত রাজ্য নেতৃত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here