bengali news kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোয়ারেন্টিন সেন্টার তৈরি করা নিয়ে বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কলকাতা পুরসভাকে। বৃহস্পতিবারও চেতলায় নিজের ওয়ার্ডে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকে। তাই এবার শহরে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বাড়ানো হবে কি হবে না, এই সিদ্ধান্ত নগরবাসীর ওপরেই ছেড়ে দিলেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। এই প্রসঙ্গে শুক্রবার কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসীর আপত্তিতে আমরা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করব না। তবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না করতে দিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন মানুষরা।’

কলকাতার মত ঘিঞ্জি প্রবন এলাকায় প্রত্যেকের পক্ষে আলাদা করে ঘরে থাকা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার কমিউনিটি হল গুলিকে কয়ারেন্টিন সেন্টার তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হোয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়েছেন, ফাঁকা জায়গায় কোনও কমিউনিটি হল থাকলে সেখানে কোয়ারেন্টিন সেন্টার গড়ে তুলতে। কিন্তু সেই পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে পুর প্রশাসনকে।

এই প্রসঙ্গে এদিন পুরপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না করতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন মানুষেরা। যেখানে করতে দিচ্ছে না আমরা করব না। কিন্তু যখন সেখানেই করোনা আক্রান্ত হবে তখন আলাদা করা যাবে না। সবার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করতে দিলাম না প্রতিবাদ করলাম, কিন্তু যখন নিজের বাড়িতেই সেই বিপদ আসবে তখন তাদেরই সবথেকে বেশি ভুগতে হবে।’

এদিকে করোনাকে সাথে নিয়েই বাঁচতে হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। এই সুর টেনে ফিরহাদ বলেন, ‘রাজ্যে যখন করোনা বাড়ে কলকাতাতেও বাড়ে ন্যাচারালি কলকাতাতেও বাড়ছে। আমরা লড়াই করব, মানুষের সহযোগিতা চাই।করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে এ ছাড়া আর উপায় নেই। সাবধানে থাকতে হবে। অনির্দিষ্টকাল তো আর বসে থাকা যাবে না। এর জন্য অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’ ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিক আসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও এদিন মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসক জানান, ‘জেলায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকরা আসার পর থেকে। আর আজ না হলেও কাল জেলা থেকে কাজের জন্য মানুষকে কলকাতায় আসতেই হবে। কলকাতাতেও সংক্রমণ বাড়বে আগামীতে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here