feroz khan bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক:  যাবতীয় যোগ্যতা থাকলেও শুধু মুসলিম বলে সংস্কৃত বিদ্যা ধর্মর শিক্ষকতা পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন ফিরোজ খান৷ সোমবার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কৌশলেন্দ্র পান্ডে৷ সেই সঙ্গে তিনি জানান, আমরা খুশি যে সংস্কৃত বিভাগে অধ্যাপনা করতে রাজি হয়েছেন ফিরোজ খান৷ উল্লেখ্য চলতি বছরের ৫ নভেম্বর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়(বিএইচইউ)এর সংস্কৃত বিদ্যা ধর্মর অদ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন রাজস্থানের ফিরোজ খান৷ মুসলিম কেন হিন্দু ধর্মর পাঠ দেবে, এই প্রশ্নে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেরুয়া ছাত্র ও অদ্যাপকরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে৷ পরিস্থিত ক্রমশ ঘোরালো হয়ে ওঠে৷ শেষে অধ্যাপক খান বাধ্য হয়ে সংস্কৃত বিদ্যা ধর্মর বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে শুধু সংস্কৃত বিষয়টি পড়াতে চান৷ তাঁর আর্জি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

তবে এখানেই শেষ নয়৷ হিন্দু মৌলবাদী ছাত্রর দল ফিরোজ খানের সমর্থক হিন্দু অধ্যাপকদের ওপরে চড়াও হয়েছে৷ তাঁদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে৷ তাদের উস্কেছে সংস্কৃত বিভাগের কিছু কট্টর হিন্দু মৌলবাদী অধ্যাপক৷ সংস্কৃত বিদ্যাধর্ম বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক লাল শান্তি সালভি অভিযোগ করেন ক্লাস চলাকালীন একদল ছাত্র তাঁর ক্লাসে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ কের ও পাথর ছোঁড়ে৷ তিনি মনে করেন তাঁরই সহকর্মীর উস্কানিতে এমন ঘটনা ঘটেছে৷ তিনি বিষয়টি উপাচার্যকে জানিয়েছেন৷ হামলাকারী এক ছাত্রর সাফ হুমকি, ফিরোজ খানকে সমর্থন করলে অধ্যাপকের ওপর এমন হামলা আরও হবে৷ অন্যদিকে বিক্ষোভকারী এবিভিপি সদস্য শুভম তিওয়ারি জানায়, ফিরোজ খানের ওপর আমাদের কোনও ব্যক্তি বিদ্বেষ নেই৷ আমাদের দাবি মুসলিম হয়ে তিনি কখনওই সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম পড়াতে পারেন না৷

ভারতে সংস্কৃত বিষয়ক পণ্ডিত অধ্যাপক রাধাবল্লভ ত্রিপাঠি নিজে সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম নিয়ে ফিরোজ খানের পরী৭আ নিয়েছিলেন৷ তাঁর সাফ কথা, খান সব দিক থেকেই এই বিষয় পড়ানোর যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন৷ অথচ তাঁকে একটা ক্লাসও নিতে দিল না বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র৷ এই বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে বিশ্বাস করেন তিনি৷ তাঁর মতে, ধর্ম নয় বিষয়ের জ্ঞান দেখা উচিত৷ অন্যদিকে ফিরোজ খান মনেকরেন তিনি সংস্কৃত বিষয়টি ভালই পড়াতে পারতেন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here