ডেস্ক: সকাল থেকে যে ব্যাপক তোড়জোর শুরু হয়েছিল কলকাতা ফর্টিস হাসপাতালে, সেই বিরাট কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হল সঠিক ভাবেই। একইসঙ্গে পূর্বভারতে প্রথম বার হার্ট প্রতিস্থাপন করে নজির গড়ল কলকাতা। সোমবার ৩০ জন চিকিৎসকের মিলিত প্রচেষ্টায় বেঙ্গালুরুর বরুণ ডিকের হৃদয় সঠিকভাবে মিলে গেল ঝাড়খণ্ডের দিলচাঁদ সিংয়ের সঙ্গে।

দিনকয়েক আগে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা বরুণ ডিকে। বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। গত শনিবার বরুণের ব্রেন ডেথের কথা ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এদিকে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বাসিন্দা দিলচাঁদ সিং বহুদিন ধরে ভর্তি ছিলেন আনন্দপুর ফর্টিস হাসপাতালে। ডাক্তাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন হার্ট প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচানো সম্ভব নয় দিলচাঁদকে। বেঙ্গালুরুর বরুণের ব্রেন ডেথের পর, তাঁর হৃৎপিন্ড দান করতে চেয়েছিল বরুণের পরিবার। প্রথমে চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গ্রহীতা না থাকায় ওই হাসপাতালেরই কলকাতা শাখায় যোগাযোগ করা হয়। সেখানেই খবর মেলে ঝড়খণ্ডের বাসিন্দা দিলদার সিং–এর হৃদযন্ত্র প্রয়োজন। এরপরই বেঙ্গালুরু থেকে বিশেষ বিমানে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কলকাতা পৌঁছয় বরুণের হৃদযন্ত্র। তারপর গ্রিন করিডোর দিয়ে মাত্র ১৮ মিনিটে তা আনা হয় বাইপাসের ধারের ওই হাসপাতালে।

বরুণের হার্ট হাতে আসা মাত্রই কাজ শুরু করে দেন চিকিৎসকরা। চিকিত্সক তাপস রায়চৌধুরী ও কে এম বন্দনার নেতৃত্বে ৩০ জন চিকিৎসকের একটি দল প্রায় ২ ঘন্টা ধরে চালায় অপারেশন এই দুই ঘণ্টা কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয় দিলচাঁদকে। অস্ত্রপচারের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আপাতত সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছে। দিলচাঁদের হৃৎপিণ্ড ওর শরীরের মধ্যেই রয়েছে সেটিকে বের করা হয়নি। ধীরে ধীরে ওটি শুকিয়ে যাবে। আপাতত তাঁকে পর্যবেক্ষনে রাখছেন চিকিৎসকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here