ডেস্ক: লালগড়ের বাঘমামা এখনো ধরা না দিলেও ভাঙড়ের বাঘমামা কিন্তু প্রাণেই মারা পড়লেন। যদিও তিনি বাঘ নন, বাঘরোল। মানুষের অজান্তে আর আতঙ্কে সে বাঘরোল থেকে বাঘ হয়ে গিয়েছিল মানুষের মুখে মুখে। গল্পটা একটু খুলেই বলা যাক। মহানগরীর ছায়া পড়া দূরত্বে অবস্থান করছে দক্ষিন ২৪ পরগণা জেলার ভাঙড় এলাকা। ঘটকপুকুর এলাকাকে ঘিরে বিস্তার ভাঙড়ের দুটি ব্লকের নানা গ্রামের। মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এই এলাকায় হাতগাছা এলাকায় গড়ে উঠেছে কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেই হাতগাছা এলাকায় বেমালুম উধাও হয়ে যাচ্ছিল ঘরের হাঁস-মুরগী মায় ছোটোখাটো ছাগলও। খালি দেখা মিলছিল না কালপ্রিটের।

তারই মধ্যে এলাকায় কেউ কেউ দাবি করতে থাকে তারা রাতের আঁধারে গ্রামে বাঘ ঘুরে বেড়াতে দেখেছে। ততদিনে লালগড়ের বাঘমামার কীর্তিকালাপ ঘরে বসে টিভির পর্দায় দেখে ফেলেছে ভাঙড়বাসী। ব্যাস আর যায় কোথায়। সকলের ধারণা হয়ে গেল লালগড়ের মতো ভাঙড়েও বাঘমামা হানা দিয়েছে। বিকেল ঢলতেই হাতগাছার মানুষ ঢুকে যেতে শুরু করল যার যার ঘরের অন্দরে। শুরু হয়েছিল বাঘাতাঙ্ক। বৃহস্পতিবার সকালে সেই আতঙ্কের অবসান ঘটল। মাঠের মাঝে এদিন সকালে পড়ে থাকতে দেখা গেল এক আজব জন্তুকে। যাকে দেখতে আনেকটা ছোটোখাটো চিতাবাঘের মতই। খবর গেল বনদপ্তরের কাছে। এল পুলিশও। তখনই জানা গেল এ নয় বাঘ, নয় চিতা। এ বাঘরোল। সুন্দরবন লাগোয়া এলাকা থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলা জুড়ে যার বিচরণ। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাকে ঠিকঠাক ভাবে চিনে উঠতে না পারার জন্যই ভাঙড়ে ছড়িয়েছিল বাঘাতাঙ্ক। তবে বনদপ্তরের আধিকারিকেরা চিন্তীত বাঘরোলটি মারা যাওয়ায়। ঠিক কি কারণে সেটি মারা গিয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here