ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর ছাতি ৫৬ ইঞ্চির হওয়া বহু কারণই রয়েছে। যার মধ্যে বিশেষভাগে উল্লেখযোগ্য, ক্রমাগত দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জিডিপির বৃদ্ধি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে এই জিডিপিই বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠতে পারে সরকারের জন্য। আন্তর্জাতিক সমীক্ষক সংস্থা ‘ফিচ রেটিংস’-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ব্যাপকভাবে নিম্নমুখী হতে পারে জিডিপির সূচক। ফলে যতটা উন্নতি আর্থিক ক্ষেত্রে আশা করা হচ্ছিল, ততটা বাস্তবে হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

যেভাবে ভারতীয় অর্থনীতির ‘বিকাশ’ হচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নাকি ব্রিটেনকে টপক বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে যেতে পারে ভারত। বিগত কয়েক মাসে এই ধরনের খবর গোচরে এসেছে আমাদের সবার। কিন্তু আর্থিক ভারসাম্যের দিক দিয়ে ব্রিটেনকে পিছনে ফেলতে যা সবথেকে বেশি দরকার, তা হল লাগাতার জিডিপি বৃদ্ধি। আর ফিচের সমীক্ষায় ঠিক সেখানেই ধাক্কা খাচ্ছে ভারত। ‘গ্লোবাল ইকনমিক আউটলুক’-এ ফিচ রেটিংস জানাচ্ছে, চলতি অর্থবর্ষ শেষে জিডিপি বৃদ্ধির হার সর্বাধিক হয়ে পারে ৬.৯ শতাংশ। বিগত কয়েক মাস আগেই যেই সূচক ৭.২ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলবে মনে করা হচ্ছিল। অর্থাৎ একধাক্কায় ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি কম হতে দেখা যাচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। ফিচ আরও জানাচ্ছে, আগামী অর্থবর্ষ অর্থাৎ ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে জিডিপির যে অগ্রগতির আশঙ্কা তারা প্রকাশ করেছিল, তাও এখন পুরো হবে না মনে দেখা যাচ্ছে। ফিচের তরফে জানানো হয়েছিল, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে জিডিপি হতে পারে ৭ শতাংস। কিন্তু এখন নতুন করে ফিচ জানাচ্ছে, ওই সময়ের জিডিপি সর্বাধিক হবে ৬.৮ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বে অনুমান করা জিডিপির হারের তুলনায় ০.২ শতাংশ কম। আপাত দৃষ্টিতে এই সামান্য ফারাক নিয়ে আলোচনা বাড়াবাড়ি মনে হলেও এর পিছনে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

কারণ চলতি সরকারের আমলে জিডিপির যে পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে, তা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে পরবর্তী সরকারের জন্য। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় বর্তমান সরকারই ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রেও জিডিপির হার নিম্নমুখী হলে চাপ বাড়বে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here