kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম ও বাঁকুড়া: করোনা ভাইরাসের আবহেই খুলে গেল বীরভূমের পাঁচটি সতীপীঠ। পুণ্যার্থীদের পুজো ও প্রবেশের ক্ষেত্রে থাকছে বিধিনিষেধ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সমস্ত মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় দু’মাস পর অন্যান্য আরও কিছুর সঙ্গে মন্দিরগুলিও খুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেইমতো ১ জুন সোমবার থেকে বীরভূমের পাঁচটি সতীপীঠ-এর দরজা খুলে দেওয়া হয় পুণ্যার্থীদের জন্য। নলহাটির নলাটেশ্বরী, সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী, লাভপুরের দেবী ফুল্লরা, বোলপুরের কঙ্কালীতলা এবং বক্কেশ্বর এই পাঁচটি সতীপীঠে পুণ্যার্থীরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন ও পুজো দিতে পারবেন। যদিও সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিদ্ধপীঠ তারাপীঠের মা তারার মন্দির এখনও ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে না। আগামী ১৫  জুন খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া শহর লাগোয়া দ্বারকেশ্বর নদের তীরে এক্তেশ্বরে অবস্থিত বহু প্রাচীন শিবের মন্দির এক্তেশ্বরে ভোলে বাবার বার সোমবার থেকেই খুলে গেল। এইদিন মন্দিরের মূল দরজা বন্ধ ছিল। শুধুমাত্র প্রতিদিন মন্দিরের পুজো, ভোগ নিবেদন, আরতি করতেন পূজারি। ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল ভক্তদের প্রবেশ। দীর্ঘ সময় পর সরকারি নির্দেশ মেনে মন্দিরের দরজা খুলল মন্দির কর্তৃপক্ষ। সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে মন্দির। আজ সকাল থেকেই এক্তেশ্বর শিবের দর্শন পেতে ও পুজো দিতে ফলমূল সহযোগে হাজির হন ভক্তরা। তবে সাধারণ মানুষের মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারে ভক্তদের হাতে দেওয়া হচ্ছে স্যানিটাইজার। পরে থার্মাল গান দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া হচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকলে সেই সব ভক্তদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না মন্দিরের ভেতরে। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করছেন না কোনও পুরোহিত। মূল মন্দিরের বাইরে পুজোর মন্ত্রপাঠ, পুজোর আচার বিধি সংকল্প করে দিচ্ছেন পুরোহিত। পরে মন্দিরের গর্ভগৃহে বাবা এক্তেশ্বরের দর্শন করতে ও  জল, দুধ নিবেদনের জন্য গর্ভগৃহে প্রবেশ করছেন ভক্ত নিজেই। গর্ভগৃহে যাতে ভিড় না হয় এবং ভক্তরা যাতে দর্শন করতে পারেন সেই জন্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here